Ajker Patrika

নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, আ.লীগের ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, আ.লীগের ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
নেত্রকোনায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন । ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সংগঠনের ২৫ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমান মিন্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া সেতুর দক্ষিণ পাশে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের কাছে একটি মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি এসে নামেন। পরে পেট্রল ঢেলে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রায় আধা মিনিটের মতো বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছাড়েন।

পরদিন বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, তিন যুবক স্মৃতিস্তম্ভের কাছে এসে আগুন ধরিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন। পরে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু বলে স্লোগান শেষ করে যুবকেরা দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যান।

এই ঘটনায় এনসিপির নেতা মুশফিকুর রহমান বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাফিজ রেশিমকে এক নম্বর আসামি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান রনিকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান খান অভ্র, সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান রনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরেফিন কায়সার শুভ ও জেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৌশিক রায়সহ ২৫ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার বাদী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়াকে মেনে নিতে পারিনি। তাই যাঁরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। আশা করছি, পুলিশ আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করবে।’

এ বিষয়ে জানতে মামলার প্রধান আসামি রেজাউল হাফিজের মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় তিন মাস আগে রেজাউল হাফিজ ও স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বলেন, মামলায় উল্লিখিত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত