ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্তির সংবাদে দুদিন আগে এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনদের মিষ্টি মুখ করিয়েছেন। কিন্তু সংশোধিত ফলাফলে নেই তাদের নাম। বৃত্তির আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে ১০ শিক্ষার্থীর। তাঁরা লজ্জায় বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। অভিভাবকেরাও পড়েছেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।
আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার গোয়ালডাঙ্গী গ্রামে দেখা যায়, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল মো. ছিয়াম মিয়া (১১)। সংশোধিত ফলাফলে নেই তাঁর নাম। কষ্ট আর লজ্জায় গত তিন দিন ধরে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না সে।
অভিভাবকেরা কথা বলার একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছিয়াম উপজেলার বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাঁর বৃত্তি পরীক্ষার রোল ছিল ৩৬৫। বর্তমানে সে বানিয়াজুরী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে উপজেলার রাহাত হাঁটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তানহা মাহমুদ সাধারণ গ্রেডে, ছাবিতা বিশ্বাস, ঈশিতা আক্তার, মীম আক্তার ও হাফজা আক্তার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায়। কিন্তু ১ মার্চ প্রকাশিত ফলাফলে এই ৫ জনের মধ্যে শুধু ছাবিতা বিশ্বাস বৃত্তি পায় সাধারণ গ্রেডে।
তরা বিদ্যালয়ে একজন, উত্তর তরা বিদ্যালয়ে একজন, পাঁচুরিয়া বিদ্যালয়ে দুজনের নাম বাদ পড়েছে। এক যুগ পর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পায় পাঁচুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রী। এই খুশিতে প্রতিবেশীদের মিষ্টিও খাওয়ান তাঁরা। কিন্তু এখন হতাশা নেমে এসেছে পরিবারগুলোতে। কারণ দ্বিতীয়বার প্রকাশিত ফলাফলে বৃত্তি পায়নি তাঁরা। এ কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এই শিশু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
শিক্ষার্থী ছিয়াম বলে, ‘স্যার আমাকে বলেছিল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। মোবাইলে সেই রেজাল্ট বের করে দেখেছি। সবাইকে মিষ্টিও খাইয়েছি। কিন্তু পরে জানতে পারি আমার বৃত্তি আসেনি।’
ছিয়ামের মা বীথি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে বৃত্তি পাওয়ায় অনেক খুশি হয়েছিলাম। ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। যদি সে বৃত্তি নাই পেত, তাহলে আগে কেন দিল! কেন আমার ছেলের মনটা ভেঙে দিল! তিন দিন ধরে ছেলেটি বাড়ির বাইরে যায় না। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে না। ঘরে বসে কাঁদে। ওর মুখের দিকে তাকালে আমারও কান্না আসে। আমার ছেলের কোনো ক্ষতি হলে দায়ভার কে নেবে?’
অপর শিক্ষার্থী মীম আক্তার বলে, ‘আমি এটা মানতে পারিনি। আমাদের সঙ্গে কেন এমন করা হলো। সবাই জিজ্ঞাসা করে বৃত্তির খবর কি? কোনো উত্তর দিতে পারি না। সরকারের কাছে আবেদন, আবার ফলাফল সংশোধন করা হোক।’
বানিয়াজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ বাবুল মিয়া বলেন, ‘ত্রুটির কারণে আগের ফলাফল বাতিল করে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেছে। যারা বাদ পরেছে তাদের মনে কষ্ট লাগা স্বাভাবিক। বাদ পড়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি।’
বিষয়টি নিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমপক্ষে ২০ জন শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, সংশোধিত ফলাফলে সন্তানদের রোল নম্বর না থাকার ঘটনায় অভিভাবকেরা শিক্ষকদের দায়ী করছেন। নানাভাবে বোঝালেও বিষয়টি বুঝতে চাইছেন না গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকেরা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসিনা আক্তার পারভীন বলেন, ‘প্রথম প্রকাশিত তালিকায় ত্রুটি ছিল বলেই সংশোধন করা হয়েছে। এতে কেউ বাদ পড়েছে, কেউ পেয়েছে। উপজেলায় ৩৩ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৪৩ শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করতে পারবে তারা।’

গর্ভাবস্থার শুরু থেকে ঠাকুরগাঁও মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন রাশেদা আক্তার। চিকিৎসকদের আশ্বাস আর সাশ্রয়ী খরচের কথা ভেবে আশা করেছিলেন, সরকারি এ প্রতিষ্ঠানেই নিরাপদে জন্ম নেবে তাঁর সন্তান। কিন্তু প্রসববেদনা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতালে পৌঁছার পর আশাহত হন।
১৩ মিনিট আগে
মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিবেশীদের হামলায় গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যা (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের সোয়া শতডাঙ্গা গ্রামে অন্তত ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
২৮ মিনিট আগে
পাবনা শহরে রয়েছে অসংখ্য পুকুর, দিঘি ও প্রাকৃতিক জলাধার। একসময় এসব জলাধার ছিল সুপেয় পানির প্রধান উৎস, ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষার কার্যকর মাধ্যম এবং নগরীর সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন। কিন্তু দখল, দূষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব জলাধার হারিয়ে যাওয়ার পথে।
৩৮ মিনিট আগে
‘পারিবারিকভাবে বাবা-মা, নানা-নানির সম্মতিতেই আত্মীয়তার মধ্যে বিয়ে হয়েছে। আইন সম্পর্কে জানতাম, তারপরও পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়েটি করেছি। বয়স পূর্ণ হলে সেটি রেজিস্ট্রি করা হবে।’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
১ ঘণ্টা আগে