Ajker Patrika

চর জাগায় সেচ সংকট, অনিশ্চিত বোরো আবাদ

  • সেচ প্রকল্প এলাকায় যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠায় পানির উৎস বন্ধ।
  • প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ একর কৃষিজমিতে পানি মিলছে না।
আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)  
চর জাগায় সেচ সংকট, অনিশ্চিত বোরো আবাদ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের কাশাদহ সেচ প্রকল্পের পাম্প হাউসের পাশে চর জেগে উঠেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কাশাদহ সেচ প্রকল্প চালুর সময় ২০টি পাম্প ছিল। ধীরে ধীরে কমে তিনটিতে নেমেছে। বর্তমানে সেই সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রকল্প এলাকায় যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগে ওঠা। এতে পানি না পাওয়ায় সেচ প্রকল্প বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সেচ প্রকল্পের আওতাধীন প্রায় দুই হাজার কৃষক।

জানা গেছে, এই সেচ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ একর কৃষিজমি রয়েছে। প্রায় দুই হাজার কৃষক স্বল্প খরচে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিয়ে ফসল ফলিয়ে আসছেন। যমুনা নদী থেকে সরাসরি পাইপের মাধ্যমে এসব জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু পানির উৎসমুখে বিশাল চর জেগে ওঠায় সেচের জন্য পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আরিচা খালপাড় এলাকায় যমুনা নদীর তীরে প্রকল্পের পানির হাউসের সামনে চর জেগে ওঠায় মূল স্রোত হাউস এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। হাউসের নিচের ক্যানালে যে সামান্য পানি রয়েছে, তা দিয়ে সেচ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। সময়মতো চর খনন ক্যানাল তৈরি না হলে এবার বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাশাদহ সেচ প্রকল্পের আওতায় শিবালয়ের ১২-১৪টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার কৃষক দেড় হাজার একর জমিতে স্বল্প খরচে ইরি-বোরো আবাদ করে আসছেন। সরাসরি নদীর আয়রনমুক্ত পানি ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি বজায় থাকে এবং সেচ ব্যয়ও কম হয়।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রথম বছরে ২০টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র তিনটি পাম্প দিয়ে কোনোভাবে প্রকল্প চলছে।

২০০৪ সালের ৯ আগস্ট প্রকল্পটি কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের অধীনে আসে। সরকারি অর্থায়নে কয়েক দফায় প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল পুনঃখনন, পাকা নালা, স্লুইসগেট ও পানির হাউস নির্মাণ করা হয়।

কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আওরঙ্গজেব বলেন, পানির হাউসের সামনে চর জেগে ওঠায় মূল নদী অনেক দূরে সরে গেছে। দ্রুত চর কেটে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না করলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

শিবালয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সরেজমিনে দেখানো হয়েছে।’

শিবালয়ের ইউএনও মনীষা রানী কর্মকার বলেন, ‘কৃষকদের স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত