Ajker Patrika

দৌলতপুরে ৯ ঘণ্টায় পদ্মার পানি কমেছে ১ সেন্টিমিটার, ক্ষতির মুখে কৃষি

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৫
দৌলতপুরে ৯ ঘণ্টায় পদ্মার পানি কমেছে ১ সেন্টিমিটার, ক্ষতির মুখে কৃষি
দৌলতপুরের পানিবন্দী বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি গত ৯ ঘণ্টায় ১ সেন্টিমিটার কমেছে। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার থেকে কমে ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার হয়েছে। পানি বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। বন্যার পানিতে ৩ হাজার ২৩ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৬ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা ৬টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০৬ সেন্টিমিটার । ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার।

পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত নতুন করে পানি বাড়েনি। তবে আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার ৩ হাজার ২৩ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে আমন ধানের জমি। ১ হাজার ৩০০ হেক্টর আমন ধানের জমি আক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬ হেক্টর। এ ছাড়া ৬৬৬ হেক্টর মরিচের জমি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৬৩ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত। ২৬৫ হেক্টর সবজির জমি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২২৮ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত।

টানা এক সপ্তাহের বন্যায় উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে, দুর্গত এলাকার প্রায় আট হাজার পরিবারের ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে।

দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল ও শুকনা খাবারের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবে। আরও ২৫০ পরিবারকে দুই লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এসব সহায়তা বিতরণ শেষ করার কথা রয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ দুপুরে চিলমারী ইউনিয়নের মানিকেরচরের ২৫০ পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল ও ৩০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।

দৌলতপুরের পানিবন্দী বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা
দৌলতপুরের পানিবন্দী বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তুলনায় আমাদের কাছে বরাদ্দ কম এসেছে। এ কারণে জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। দ্রুতই নতুন বরাদ্দ আসবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমানে যে সহায়তা পেয়েছি, তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিতরণ শেষ করা হবে।’

শুভাগত বিশ্বাস আরও বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নতুন করে অতিরিক্ত পানি বাড়ার আশঙ্কা কম। এক-দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকার পর কমতে শুরু করতে পারে।’

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, ‘গতকাল থেকে নতুন করে তেমন পানি বাড়েনি। তবে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সোমবার থেকে আমার ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববার দুপুরে কিছু পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

বন্যার পানি ওঠায় চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোতে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় পানি ওঠায় রান্নার স্থান ও নলকূপ তলিয়ে গেছে। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ আজ দুপুরে ত্রাণ বিতরণ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুপুরে আমি দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সোমবার থেকে আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সহায়তা কার্যক্রম শুরু করব। প্রথম দিন চিলমারী ইউনিয়নে এবং মঙ্গলবার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত