Ajker Patrika

হানি ট্র্যাপে ফেলে সাবেক রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৩০
হানি ট্র্যাপে ফেলে সাবেক রাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ৪

রাজশাহীর আলুপট্টি এলাকায় স্বচ্ছ টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক এক শিক্ষার্থীকে হানি ট্র্যাপে ফেলে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার নগরের স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ভুক্তভোগী বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন। পরে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বোয়ালিয়া থানার শেখপাড়া এলাকার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণ (২৯), রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া এলাকার আবু রায়হান (২৪) ও শাহরিয়ার মনন (২৯) এবং বহরমপুর এলাকার জুনাইরা ইসলাম (২২)। আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

মামলার বাদীর বয়স ২৮ বছর। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায়। তিনি রাজশাহী শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এজাহারে বাদী জানান, গতকাল সকাল ৮টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজশাহী শহরে আসেন তিনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে একটি বিসিএস কোচিং সেন্টার থেকে বের হয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ধাক্কা লাগে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে এক তরুণী ঘটনাস্থলে এসে সমস্যা সমাধানের কথা বলে ওই তিন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান।

১৫/এ নম্বর ফ্ল্যাটে ঢোকানোর পরপরই তাঁর মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তি তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। ওই নারীকে পাশে বসিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে দুটি শর্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের সঙ্গে থাকা নারীকে ‘কট’ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হবে, অথবা তাঁকে এক লাখ টাকা দিতে হবে।

পরে মুক্তিপণের পরিমাণ কমিয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়। ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন থেকে তাঁর বড় বোনের নম্বরে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়।

ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের জন্য তাঁর বোনের স্বামী কৃষি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংক, রাজশাহী শাখার অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার ১০ টাকা পাঠান। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ওই সাবেক শিক্ষার্থীর কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা ব্যবসায়িক লেনদেন হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এমন কথা ডায়েরিতে লিখিয়ে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁর বোনের স্বামীর পাঠানো টাকার স্ক্রিনশট নিয়ে টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামিরা পেছন পেছন গিয়ে তাঁকে অটোরিকশায় তুলে দেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, যে ফ্ল্যাটে ওই যুবককে আটকে রাখা হয়েছিল, সেটির মালিক রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। গ্রেপ্তার মোহাম্মদ তৌকির জাহান স্মরণের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সেই সূত্রে স্মরণ হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের চাবি নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

খন্দকার হাসান কবির জানান, ফ্ল্যাটটির মালিক তিনি। সেখানে তিনি ও তাঁর বড় ছেলে মাঝেমধ্যে থাকেন। হোটেলের ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আসামিরা একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্ল্যাট খুলে ভেতরে ঢুকেছিলেন।

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, তাঁর ছেলে আবু রায়হান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বন্ধুরা বিপদে পড়ায় তাঁদের উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। তাঁর ছেলে ‘ফাঁদে ফেলার’ সঙ্গে জড়িত—পুলিশের এমন দাবির বিষয়ে তিনি জানান, তাঁর ছেলে বেশি কথা বলেছেন, সে কারণে পুলিশ এমনটি বলতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আজ তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত