Ajker Patrika

ইবি শিক্ষিকা হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল

ইবি সংবাদদাতা
ইবি শিক্ষিকা হত্যা: দ্রুত বিচার দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মৌন মিছিল
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মৌন ও শোক মিছিল করেছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকদের ব্যানারে এ মিছিল হয়। মিছিলটি থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষকেরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গফুর গাজী, সহকারী অধ্যাপক মৌমিতা আক্তার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারহা তানজিম তিতিল, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক গাজী মাহবুব মুর্শিদ ও অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, অধ্যাপক ড. রোজী আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ড. তিয়াশা চাকমা এবং পরিবেশবিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইনজামুল হক সজল। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বিচারহীনতার চর্চা বন্ধ করো’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘হত্যার বিচার না হলে নিরাপত্তা কোথায়’, ‘আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার চাই’, ‘শিক্ষকদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব’, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, প্রতারণামুক্ত বিচার চাই’—স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সমাবেশে উপস্থিত অধ্যাপক ড. মোজাহিদুর রহমান বলেন, ‘আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি জানাই। তাঁর হত্যার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তাঁর সততা, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধই তাঁকে এই নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অনিয়ম ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।’ অধ্যাপক মোজাহিদুর আরও বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। রুনা ম্যাডাম যখন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চান, তখনই তাঁর ওপর এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। তাই এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিহতের পরিবার। পরে পুলিশ ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। তাঁরা সবাই পলাতক রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, জড়িত নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে—টাইমসের প্রতিবেদন

ঈশ্বর সংঘাত পছন্দ না করলেও ইরান যুদ্ধে আমাদের সঙ্গে আছেন: ট্রাম্প

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: ট্রেনের গতি বাড়াতে ডুয়েলগেজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত