প্রশ্ন: যৌথ পরিবারে কি পরিবারের প্রধান ব্যক্তি কোরবানি দিলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে? যৌথ পরিবারের কোরবানির বিধান সম্পর্কে জানতে চাই।
হামিম তালুকদার, শরীয়তপুর
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কোরবানি কোনো পরিবারের ওপর ওয়াজিব হয় না, বরং এটি ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ, পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য (নারী বা পুরুষ), যাঁর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাঁকে আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে।
যেমন, পরিবারের সবার ওপর নামাজ ফরজ হলে প্রত্যেককে আলাদাভাবে নামাজ আদায় করতে হয়, একজনের নামাজে যেমন অন্যজনের জিম্মাদারি শেষ হয় না; কোরবানির বিষয়টিও ঠিক তেমন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি কারও বোঝা নিজে বহন করবে না।’ (সুরা নাজম: ৩৮)
অনেকেই মনে করেন, যৌথ পরিবারে কেবল পরিবারের প্রধান কোরবানি দিলেই সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আলমগীরি (৫ / ২৯২)-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যৌথ পরিবার হোক বা ভিন্ন পরিবার, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
তবে কোরবানি যাঁর নামেই হোক, যৌথ পরিবারের সবাই মিলে সেই মাংস রান্না করে খেতে পারবেন, এতে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই।
দুই ভাই মিলে কি এক ভাগে কোরবানি দিতে পারবেন?
যৌথ পরিবারে অনেক সময় দুই ভাই বা বাবা-ছেলে মিলে কোরবানির একটি পশু কেনেন। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম মনে রাখতে হবে:
ছোট পশু (ছাগল, ভেড়া, দুম্বা): এগুলোতে একের অধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় না। দুই ভাই মিলে একটি ছাগল কোরবানি দিলে কারও কোরবানিই শুদ্ধ হবে না।
বড় পশু (গরু, মহিষ, উট): একটি বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাত শরিক হতে পারেন। যদি যৌথ পরিবারের পাঁচজন সদস্য নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁরা পাঁচজন মিলে একটি গরু কোরবানি দিতে পারেন। এতে প্রত্যেকের ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।
একনামে একাধিক ব্যক্তি: কোরবানির একটি ভাগে (অর্থাৎ গরুর ১ / ৭ অংশে) একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না। যদি এক ভাগে দুই ভাইয়ের নাম দেওয়া হয়, তবে ওই কোরবানি বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি ওই পশুর অন্য অংশীদারদের কোরবানিও অশুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোরবানি কেবল একটি উৎসব নয়, এটি মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি ব্যক্তিগত ইবাদত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯)। তাই যৌথ পরিবারে বসবাস করলেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ওয়াজিব কোরবানি সঠিকভাবে আদায় করা জরুরি।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

কোরবানি একদিকে আত্মত্যাগের মহাকাব্য, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই ইবাদতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন সব লোকজ রীতি, যা কখনো বিস্ময় জাগায়, কখনো আবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কোথাও কোরবানির পশুকে সন্তানস্নেহে নাম দেওয়া হয়, কোথাও আবার মেহেদি পরিয়ে সাজানো হয়...
১ ঘণ্টা আগে
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে এ দিনটি। এর মূল ভিত্তি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম...
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
কোরবানি ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন। কোরবানির পর সেই মাংস দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বা অলিমা বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহমানদারি করা নিয়ে ইসলামি শরিয়তে কোনো বাধা নেই। তবে এখানে ‘নিয়ত’ বা উদ্দেশ্যের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
১ দিন আগে