Ajker Patrika

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের সেই ঘটনায় মামলা, আসামির দোষ স্বীকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের সেই ঘটনায় মামলা, আসামির দোষ স্বীকার
গ্রেপ্তার মনির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সময় আদালত মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া তিন মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেন।

আজ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের একটি আদালত আসামির জবানবন্দি নেন এবং মামলাটির দ্রুত বিচার শেষের এই আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, আজ আদালতে আসামি মনির দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের কাছে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। পরে জবানবন্দি নেওয়া শেষে আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালত পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আজ আদালত আসামির জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি মামলাটির চার্জশিট দেওয়াসহ বিচারপ্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় বাকলিয়া থানায় মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি আজ নথিভুক্ত হয়। সেই মামলায় মনিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয়। পরে জবানবন্দি শেষে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়।

এর আগে, গতকাল চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছর বয়সী শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত মনিরকে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ সেখানে এসে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে থানায় নিতে চাইলে পুলিশসহ আসামিকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়া, সড়ক অবরোধ, পুলিশের ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চেয়ারম্যানঘাটা ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে রাত ১১টার পর এলাকায় বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের সদস্য, সাংবাদিক, সাধারণ মানুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে সে সুস্থ আছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাকে ‘‘অ্যাটেম্প টু রেপ’’ বা ‘‘ধর্ষণচেষ্টা’’ করেছিল। এরপরও আমরা শিশুটির স্যাম্পল কালেকশন করে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

রাতভর উত্তাল চট্টগ্রাম: পুলিশের পোশাক পরিয়ে সরানো হয় ধর্ষণে অভিযুক্তকে, রাখা হয়েছে কোথায়?

তথ্য গোপন করে ১৬ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল তিনি

স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরিবর্তন: থাকছে না পোস্টার ও দলীয় প্রতীক, অক্টোবরে ভোটের প্রস্তুতি

যৌথ পরিবারে কোরবানি কীভাবে দিতে হয়, বিধান কী

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, অভিযোগের বিষয়ে যা বলছে বিএনপি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত