Ajker Patrika

বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে জেলাজুড়ে সড়কপথ অবরোধ ও হরতাল শুরু

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯: ৪১
খুলনা-বাগেরহাট সড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা
খুলনা-বাগেরহাট সড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডের সামনে অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে জেলাজুড়ে সড়কপথ অবরোধ ও হরতাল শুরু হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সময় রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে, খুলনা-মাওয়া মহাসড়কের নওয়াপাড়া, কাটাখালী, মোল্লাহাট সেতু, বাগেরহাট পিরোজপুর মহাসড়কের সাইনবোর্ড বাজার, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের ফয়লা, মোংলা বাসস্ট্যান্ডসহ জেলার অন্তত ১০টি স্থানে সড়কের ওপর গাড়ি ও বেঞ্চ রেখে অবরোধ করছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতা–কর্মীরা। এতে বাগেরহাট জেলার সঙ্গে অন্য সব স্থানের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন।

বাগেরহাট সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মাদ ইউনুস বলেন, বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আমরা গেল ৩০ জুলাই থেকে আন্দোলন করে আসছি। কখনো সংবাদ সম্মেলন, কখনো রাজপথ অবরোধ আবার নির্বাচন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এর পরেও নির্বাচন কমিশন তাদের প্রস্তাব থেকে ফিরে আসেনি। এ কারণে আমরা আজকে সর্বত্র অবরোধ ও হরতালের ডাক দিয়েছি। জেলার সর্বস্তরের জনগণ আমাদের দাবির সপক্ষে অবস্থান নিয়ে হরতাল ও অবরোধ সফল করছেন। কোনো দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। মোংলা বন্দর এলাকারও বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যান চলাচল বন্ধ। আশা করি নির্বাচন কমিশন আমাদের দাবি মেনে নেবে। তা না হলে এর থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

গেল ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি বাগেরহাট জেলার চারটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন করার প্রস্তাব দিলে জেলার সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই প্রস্তাব বাতিল ও চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।

আসন কমানো অথবা বহাল রাখার বিষয়ে ২৫ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ঢাকা-৫ আসন: নতুন ভোটাররা উৎফুল্ল, আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছুর

  • যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট প্রার্থী ১৪ জন।
  • ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য নতুন ভোটাররা সৎ ও শিক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
জহিরুল আলম পিলু ,শ্যামপুর-কদমতলী (ঢাকা)
মো. নবী উল্লা, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ফাইল ছবি
মো. নবী উল্লা, মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ফাইল ছবি

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা পালন করেন এই এলাকার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। ওই আন্দোলনের বিজয়ে তাঁরা যেমন বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন তেমনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জয়-পরাজয়ের হিসাব নির্ধারণে শিক্ষার্থীসহ তরুণ ভোটাররা প্রভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।

আলাপকালে নতুন ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। তাঁদের চাওয়াও নতুন কিছু। ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তাঁরা সৎ ও শিক্ষিত প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে জানান। বয়স্ক ভোটাররাও সচেতন, তাঁরা ভেবেচিন্তে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন বলে জানান।

এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৫ জন। মোট ওয়ার্ড সংখ্যা ১২টি। এগুলো হলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০।

এই আসনে বৈধ প্রার্থী ১৪ জন। তাঁরা হলেন মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (গণঅধিকার পরিষদ), মো. তাইফুর রহমান রাহী (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট), শাহিনুর আক্তার সুমি (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্ক্সবাদী), এস এম শাহরিয়া (জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি), মো. ইবরাহীম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. হুমায়ুন কবির (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি), মীর আব্দুস সবুর (জাতীয় পার্টি), মোখলেছুর রহমান কাছেমী (বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি), মো. লুৎফুর রহমান (বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি), মো. গোলাম আজম (বাংলাদেশ লেবার পার্টি), মোহাম্মদ কামাল হোসেন (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), মো. নবী উল্লা (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি) ও মো. সাইফুল আলম (বাংলাদেশ কংগ্রেস)।

এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় একটি আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটি হলো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে জোট গঠন নিয়ে। এই দুই দলের জোট গঠন হলে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেত বলে অনেক ভোটার মত প্রকাশ করেন।

যাত্রাবাড়ী এলাকার নতুন ভোটার রাহাত হোসেন বলেন, ‘আমার জীবনে এবার প্রথম ভোট দেব। গত জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নতুন দলের (এনসিপি) প্রার্থীকে ভোট দেব।’

আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হওয়ায় এখন প্রার্থীরা দলীয় কর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক, সামাজিক ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং এলাকার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায় করে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

রায়েরবাগ এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, ‘সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে হয়তো নির্বাচনী পরিবেশ বেশি সরগরম হয়ে উঠত। তবে আমরা পরিবর্তন চাই।’

ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার ভোটার রিকশাচালক মামুন বলেন, ‘আমাদের আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে। তাই নির্বাচন নিয়ে তেমন কিছু ভাবছি না। শুনতাছি ভোটে এবার গ্যাঞ্জাম হবে। তাই ভোট না-ও দিতে পারি।’

যোগাযোগ করলে বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লা অফিস থেকে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দিতে নিষেধ আছে বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই। জনগণ যদি ঠিকমতো ভোট দিতে পারে তাহলে আমি শতভাগ পাস করার নিশ্চয়তা দিচ্ছি।’ কারণ হিসেবে তিনি জানান, ভোটাররা এখন অসৎ, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের ভোটের মাধ্যমে বর্জন করবে। আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল নির্মাণ ও মেরামত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুপেয় পানি ও গ্যাস সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক, সন্ত্রাস, ইভ টিজিং রোধসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

নাটোর-২: সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে গণভোটের প্রচার

নাটোর প্রতিনিধি 
গণভোটের প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে নাটোর পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি।
গণভোটের প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে নাটোর পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সটি।

নাটোর পৌরবাসীকে দ্রুত ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত সরকার উপহার হিসেবে দিয়েছিল প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার লাইফসাপোর্ট (আইসিইউ) অ্যাম্বুলেন্স। মুমূর্ষু রোগীদের জীবন বাঁচানোর সে বাহনটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে গণভোটের প্রচারণায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে নাটোর পৌর কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সটি প্রচারণার ‘ভোটের গাড়িতে’ রূপান্তর করেছে।

গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্সটির গায়ে নির্বাচনী স্টিকার সাঁটানো। ওপরে স্থাপন করা হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। বেলা ১১টায় পৌরসভার গেটের সামনে প্রথমে ভোটের প্রচারণা করে অ্যাম্বুলেন্সটি।

জানা যায়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ভারত সরকার বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে নাটোর পৌরসভা, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে মোট তিনটি অত্যাধুনিক আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেয়। ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর পৌরসভা প্রাঙ্গণে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি নাটোর পৌর মেয়রের কাছে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর করেন।

শহরের মাদ্রাসা মোড়ের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স মানেই জীবন বাঁচানোর বাহন। জনবল নিয়োগ দিয়ে এটি মানুষের সেবায় ব্যবহার করা যেত। এটি যদি ভোটের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে অসুস্থ মানুষ যাবে কোথায়?’

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, ‘সকালে পৌরসভায় এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সে হ্যাঁ-না ভোটের স্টিকার লাগানো। তবে অ্যাম্বুলেন্স হঠাৎ ভোটের গাড়িতে রূপান্তরের বিষয়ে আগে থেকে পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।’

পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এস এইচ এম মাগ্ফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কথা বলে জানাতে পারব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহ: জলাতঙ্কের টিকা নেই, বিপাকে রোগীরা

  • এক মাস আগে জেলার সরকারি হাসপাতালে মজুত টিকা শেষ হয়েছে।
  • ফার্মেসিগুলোতেও পাওয়া যাচ্ছে না জলাতঙ্ক প্রতিরোধী এ টিকা।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নিতে রোগীদের ভিড়। সাম্প্রতিক ছবি। 	আজকের পত্রিকা
ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নিতে রোগীদের ভিড়। সাম্প্রতিক ছবি। আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহে জলাতঙ্ক (র‍্যাবিস) রোগপ্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (টিকা) সংকট দেখা দিয়েছে। সদরসহ জেলার পাঁচটি সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। চিকিৎসকেরা রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরামর্শ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে জেলার ফার্মেসিগুলোতেও এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যক্তিগতভাবে কিনে নিতে হচ্ছে রোগীদের, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে কবে ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে, সে বিষয়েও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জানুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ থেকে ফুরিয়ে যায় র‍্যাবিসের ভ্যাকসিন সরবরাহ। ফলে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে শরীরে প্রয়োগ করতে হচ্ছে রোগীদের। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৪০-১৫০ জন রোগী এই ভ্যাকসিন নিতে আসেন। তবে সরকারি সরবরাহ না থাকায় ২৭ তারিখের পর থেকেই বেসরকারি ভ্যাকসিনের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। হাসপাতালের মজুত শেষ হওয়ার দু-এক দিন পর থেকে জেলার ফার্মেসিতেও আর মিলছে না ভ্যাকসিনটি। ফলে অনেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে মেহেরপুর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে এনে শরীরে প্রয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুকুর বিড়াল আঁচড়ানো-কামড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র‍্যাবিসের ভ্যাকসিন নিতে হয়।

জেলার অন্যান্য হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২৩ দিন নেই ভ্যাকসিনটির সরবরাহ। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫ জন রোগী আসেন এ ভ্যাকসিন নিতে। কোঁটচাদপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ মাস ধরে নেই সরকারি ভ্যাকসিনের সরবরাহ। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী আসেন। মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ দিন ধরে নেই ভ্যাকসিনের সরবরাহ। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৮ জন রোগী আসেন সেবা নিতে। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিন নেই সরকারিভাবে বিনা মূল্যের ভ্যাকসিন সরবরাহ। এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন রোগী আসেন ভ্যাকসিন নিতে। তবে সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কিনে এনে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিনা মূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তাও খুবই কম বলে জানা গেছে।

সদর হাসপাতালের টিকাদান কক্ষে কাজ করা উমায়ের হোসেন বলেন, প্রতিদিন অনেক রোগী আসছে। ভ্যাকসিন কিনে আনতে পারলে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেকেই ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত মাসের ২৭ তারিখ থেকে এখানে ভ্যাকসিনটি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের স্টোরে এই ভ্যাকসিনটি বর্তমানে মজুত নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

তিস্তা সেচনালার তীরে ভাঙন: ডুবল শতাধিক একরের ফসল

  • সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায় দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের প্রায় ২০ ফুট ধসে গেছে।
  • তলিয়ে গেছে সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলুসহ শতাধিক একর জমির রবিশস্য।
নীলফামারী প্রতিনিধি
ধসে গেছে তিস্তা সেচনালার দিনাজপুর খালের বাঁ তীর। গতকাল নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
ধসে গেছে তিস্তা সেচনালার দিনাজপুর খালের বাঁ তীর। গতকাল নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীতে তিস্তা সেচনালার দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের পাড় ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি খালের পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার বেলা ৩টার দিকে জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায় দিনাজপুর খালের বাঁ তীরের পাড় প্রায় ২০ ফুট ধসে যায়। এতে ক্যানেলের পাশে থাকা শতাধিক একর জমির সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও রবিশস্য পানিতে তলিয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমের (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি থেকে পানি দেওয়া শুরু হয়। ওই সেচের পানি পেয়ে তিস্তার কমান্ড এলাকার দিনাজপুর নালার উভয় পারের কৃষকেরা বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চারা রোপণ করছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় গতকাল খালের পাড় ভেঙে আমার জমিসহ আশপাশের শতাধিক একর জমি পানিতে তলিয়ে যায়।’

সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে। সেই সঙ্গে এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমি লাগানো আলুর খেত নষ্ট হয়ে গেছে।’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এর আগে ২০১৫ ও ২০২৪ সালেও খালের পাড় বিধ্বস্ত হয়েছিল। সে সময়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।’

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ওই এলাকার নীলফামারী-পঞ্চপুকুর ইউপি সড়কটি অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি তোলেন। এ সময় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে তিনি কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, যত দূর ধারণা, ওই স্থানে ইঁদুরের গর্ত ছিল। সেচের জন্য নালায় পানি ছাড়ায় ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি বের হয়ে খালের তীর বা পাড় ২০ ফুট বিধ্বস্ত হয়েছে।

আতিকুর রহমান আরও বলেন, ‘যেহেতু সেচনির্ভর বোরো আবাদ শুরু হয়েছে। আমরা দ্রুত বিধ্বস্ত স্থানটি মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে পারব। তবে দিনাজপুর নালার (ক্যানেল) বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে চলতি খরিপ-১ বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। এতে ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে পাউবো। এর মধ্যে নীলফামারী জেলার ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর ও দিনাজপুর জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ পাবে। সূত্রমতে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কমান্ড এলাকায় টানা মে মাস পর্যন্ত ৫ মাস বোরো ও রবি মৌসুমের জন্য কৃষকেরা তিস্তার সেচ পাবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়ে র‍্যাব, গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব

প্রশাসনে রদবদল হয়েছে লটারির মাধ্যমে, পক্ষপাতের সুযোগ নেই— এনসিপিকে প্রধান উপদেষ্টা

৮টি যুদ্ধ থামিয়েও নোবেল পুরস্কার পাইনি, শান্তির আর তোয়াক্কা করি না: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত