লুট করা সোনার ভাগাভাগি নিয়ে যুবদল নেতাকে হত্যা, চুক্তি ২০ লাখে
• যুবদল নেতা শাকের হত্যার পরিকল্পনায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা।
• হত্যার জন্য ২০ লাখ টাকা নেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

মাগুরা সদর উপজেলায় বাসযাত্রীর কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৫০ ভরি স্বর্ণের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে (৩৬) হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন। তিনি শাকেরকে হত্যার জন্য জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে তাঁর ব্যাংক হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠান।
আজ বুধবার দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র একটি পরিবহনে ওঠে। পরে মানিকগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমানকে বাস থেকে নামিয়ে হলিনগর গ্রামের নিখিল মাস্টারের মেহগনিবাগানে নিয়ে যায় তারা। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। ওই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় মজিবর রহমান গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, ছিনতাই করা স্বর্ণ নিজের কাছে রেখে দেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন। কিন্তু স্বর্ণের ভাগ না পেয়ে শাকের হোসেন বারবার তাঁর কাছে নিজের অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে। পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদ উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেন। সেখানে শাকেরকে পাঁচ লাখ টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয় মারুফকে। কিন্তু মারুফ ওই টাকা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি শাকের। তিনি বারবার স্বর্ণের ভাগ বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাতে থাকেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, শাকেরের এমন চাপের মুখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মারুফ। একপর্যায়ে তিনি শাকেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য গোলাম জাহিদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শাকেরকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গোলাম জাহিদের ব্যাংক হিসাবে ২০ লাখ টাকা পাঠান মারুফ। এরপরই শাকেরকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, স্বর্ণ ছিনতাই ও শাকের হত্যার ঘটনায় যোগসূত্র পাওয়া গেছে। উভয় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম জাহিদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে তিনি স্বর্ণ ছিনতাই ও ভাগাভাগি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা স্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথমে দায়ের করা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন গোলাম জাহিদ, মারুফ হোসেন, মো. জুয়েল হোসেন, তৌকির আহমেদ, মো. ফরিদ মণ্ডল, মো. মিল্টন মোল্যা ও মারুফা আক্তার। তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া ৯ ভরি ৭ আনা ৫ রতি ওজনের একটি তেজাবি (২৪ ক্যারেটের শত ভাগ খাঁটি) স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বুলেট, কার্তুজের খোসা, ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
অপরদিকে শাকের হোসেন হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম, অনিমেষ মজুমদার ও বশির আলী নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া গোলাম জাহিদ ও মারুফ হোসেনও এই মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে মোটরসাইকেলে এসে শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিনাহার রুমা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।












