Ajker Patrika

ঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৬৪ জন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ছয় মাসে ১৮৯ জনের আত্মহত্যা, গত বছরের চেয়ে বেড়েছে ৬৪ জন
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঝিনাইদহে ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৯২ জন এবং নারী ৯৭ জন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার আত্মহত্যার এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংগঠন আরডিসি।

আজ শনিবার আরডিসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের সবাই গলায় ফাঁস কিংবা বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জেলার উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায়। এ উপজেলায় মোট ৫৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এরমধ্যে নারী ২৯ জন এবং পুরুষ ৩০ জন।

এ ছাড়া শৈলকুপা উপজেলায় ৪৪ জন, হরিণাকুন্ডুতে ২৫ জন, কোটচাঁদপুরে ২১ জন, কালীগঞ্জে ২০ জন এবং মহেশপুরে ২০ জন আত্মহত্যা করেছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঝিনাইদহে আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলায় আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৭ জন এবং নারী ৬৮ জন। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়েছে ৬৪ জন।

ঝিনাইদহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, এখানকার মানুষ অতি আবেগী, ভৌগোলিক সমস্যা এবং ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা কম। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আত্মহত্যা রোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসী সভা ও কাউন্সিলিং বাড়ানো এবং যুবসমাজের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং মানসিক চাপ মোকাবিলায় পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরডিসির নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, আত্মহত্যা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। আত্মহত্যা রোধে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আত্মহত্যার প্রবণতা কমাতে মাঠপর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় কাউন্সিলিং এবং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ বাড়াতে হবে।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘আমাদের মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আছেন, ইউএনও আছেন এবং আমি নিজেও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় এ বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ঝিনাইদহে মাদকের প্রবণতা একটু বেশি আছে। এটা একটি কারণ হতে পারে। এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা থাকতে পারে। মানসিক চিন্তাও এমনটির কারণ হতে পারে। আসলে সিঙ্গেল কোনো একটি বিষয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে এমনটি বলা যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, আত্মহত্যা কীভাবে রোধ করা যায়, এ বিষয়ে একটি নাটিকা তৈরি করার কাজ চলছে। নাটিকাটি বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রচার করা হবে। নাটিকাটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মহত্যা কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত