Ajker Patrika

শরতের গরমে ঠান্ডা লাগা এড়াতে যা করবেন

ফিচার ডেস্ক
শরতের গরমে ঠান্ডা লাগা এড়াতে যা করবেন

বর্ষার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে শরৎ। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বৃষ্টির মিঠে আমেজ কাটিয়ে ফিরছে ভাদ্রের কাঠফাটা গরম। আবহাওয়ার এমন হঠাৎ রূপ বদলে ঘরে ঘরে দেখা দিতে পারে ভাদ্রের ‘অফ-সিজনাল’ বা গরমে ঠান্ডা লাগার সমস্যা। গরমের দিনেও কিন্তু শীতে ঠান্ডা লাগানোর জন্য দায়ী ‘রাইনোভাইরাস’ বা ‘এন্টারোভাইরাস’-এর মতো জীবাণুগুলো একইভাবে সক্রিয় থাকে। অনেকের ধারণা, গরমে ঘাম ঝরালে বা গরম ভাপ নিলে ঠান্ডা দ্রুত সেরে যায়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে ঠান্ডা বের করে দেওয়া সম্ভব নয়। ঠান্ডা লাগলে তা সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

গরমে ঠান্ডা লাগলে যা করবেন

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম: ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শরীরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। প্রতিদিন রাতে ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

হাইড্রেটেড থাকা: শরীর আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করতে হবে। হালকা গরম লেবু-পানি ও মধু খেলে গলাব্যথা বা খুসখুসে ভাব কমে।

ভাপ ও স্যালাইন ওয়াটার: গরম পানির ভাপ নিলে তা সাময়িকভাবে বন্ধ নাক খুলে দিতে সাহায্য করে। তবে এতে ড্রপ বা পানির তোড়ে ত্বক যেন পুড়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গলাব্যথা কমাতে গরম পানিতে লবণ দিয়ে গড়গড়া করা যেতে পারে।

ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখা: শুষ্ক বাতাস উপদ্রব বাড়ায়। তাই ঘরে দরকার পড়লে ‘হিউমিডিফায়ার’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

গরমের ঠান্ডা এড়াতে সতর্কতা

  • ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখে কোনোভাবেই স্পর্শ করা যাবে না।
  • পরিবারের কারও ঠান্ডা লাগলে তোয়ালে কিংবা ব্যবহৃত সামগ্রী ভাগাভাগি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অতিরিক্ত গরমে অনেকে অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করে ঘামার চেষ্টা করেন। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঘামে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে। হালকা শরীরচর্চা বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করলেও জ্বর, কাশি বা বুকে কফ থাকলে কঠোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে।

গরমেও ঠান্ডার লক্ষণগুলো একই থাকে। তবে লক্ষণ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় কিংবা তরল সর্দির রং পরিষ্কার ও পাতলা হয়, তাহলে এটি সাধারণ ঠান্ডার বদলে অ্যালার্জি হতে পারে। এ সময়ে সচেতন থেকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল খাবার গ্রহণ করলে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হওয়া সম্ভব।

সূত্র: হেলথ লাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত