Ajker Patrika

ঝিনাইদহে নিহত কর্মীর লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, জামায়াতের দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৩১
ঝিনাইদহে নিহত কর্মীর লাশ নিয়ে বিএনপির বিক্ষোভ, জামায়াতের দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু
ঝিনাইদহ সদরে জামায়াতের নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়ার লাশ নিয়ে আজ শনিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়ার (৪৮) লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তরু মিয়ার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর আজ শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই কর্মসূচি করেন।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ‘নিহত তরু মিয়া অসুস্থ ছিলেন না। তাঁর মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যে কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’

এদিকে বিএনপির ওই কর্মী মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে (স্ট্রোক) মারা গেছেন বলে দাবি করেছে জামায়াত। আজ দুপুরে জেলা শহরের হালহেরা মোড়ে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সদর থানা জামায়াতের আমির মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, তরু মিয়াকে কোনো আঘাত করা হয়নি। তিনি অসুস্থ ছিলেন। অতিরিক্ত ডায়াবেটিস এবং হার্টের সমস্যা ছিলেন। ঘটনার মধ্যে পড়ে যাওয়ার কারণে স্ট্রোক করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত তরু মিয়া ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের মনছুর আলীর ছেলে। তিনি প্রায় দুই যুগ প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে দেশে ফেরেন। তাঁর ছেলে শিপন রহমান গান্না ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য। দেশে ফেরার পর তরু মিয়াও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের নারী কর্মীদের দোয়া মাহফিল চলছিল। সেখানে ইফতারসামগ্রী বিতরণ নিয়েও আলোচনার মধ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এর কারণ জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষে জামায়াতের নারী কর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। তাঁদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিএনপির কর্মী তরু মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল রাত ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সেখান থেকে পুলিশ তাঁর লাশ এনে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঝিনাইদহ সদরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ শনিবার দুপুরে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঝিনাইদহ সদরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানাতে আজ শনিবার দুপুরে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ দুপুরে নিহত তরু মিয়ার লাশ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে থেকে হস্তান্তর করার পর জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা সেই লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন; যা হামদহ মনুমেন্টে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ‘নিহত তরু মিয়া অসুস্থ ছিলেন না। তাঁর মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যে কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘নিহত তরু মিয়ার ছেলে ৫১ জনের নামোল্লেখ এবং ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। এরই মধ্য তিনজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নদীর পাড়ে পড়ে ছিল অজ্ঞাতনামা যুবকের গলাকাটা ও মাথাবিহীন লাশ

এমপিকে অভ্যর্থনার পর হত্যা মামলার আসামির পোস্ট ‘এয়ারপোর্টে ভাইকে রিসিভ করলাম’

গণহত্যার মামলায় আইসিজেতে ইসরায়েলের পক্ষে-বিপক্ষে ৬ দেশ

জাল সনদে ১২৮ শিক্ষক, ফেরত দিতে হবে টাকা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানির সংকটে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত