Ajker Patrika

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী, সেবা ব্যাহত

আনোয়ার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী, সেবা ব্যাহত
হাসপাতালের বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন পুরুষ রোগীরা। গতকাল তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়েছে। কয়েক দিন ধরে রোগী ভর্তি থাকছে হাসপাতালের ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ। কখনো কখনো ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ধারণক্ষমতার তিন গুণ। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে গড়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে ৬৮ জন। বেড বাদেও রোগীর স্থান হয়েছে হাসপাতালের বারান্দায় ও সিঁড়ির মুখে।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে গরম বেড়ে যাওয়ায় জ্বর ও ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। ভর্তি রোগীদের অধিকাংশ আসছে জ্বর ও পেটের পীড়া নিয়ে। এ ছাড়া কিছু রোগী আসছেন হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে। বাড়তি রোগীর এই চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, শুধু বেডের বাইরের রোগী নয়; ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ সরবরাহ পাচ্ছে না। তাদের সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

এ সময় হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ১০০ জন রোগী ভর্তি আছে। যার মধ্যে নারী ও শিশু ওয়ার্ডে ৬০ জন ও পুরুষ ওয়ার্ডে ১৯ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি আছে ৪০ জন। হাসপাতাল সূত্র বলছে, সোমবার সকালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৭।

পুরুষ ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকা নাজমা আক্তার বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে এই ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। ডায়রিয়া আর হিট স্ট্রোকে বেশি রোগী আসছে। ডায়রিয়া রোগীর স্যালাইন সোমবার সকাল থেকে নেই।’

শিশু ওয়ার্ডে ৫ নম্বর বেডের জায়েবা নামে ১২ মাসের শিশু রোগীর মা রুমিসা খাতুন বলেন, ‘শনিবার সকালে পাতলা পায়খানার সমস্যা নিয়ে বাচ্চাকে ভর্তি করাইছি। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। ওষুধ চাইলে বলে বাচ্চাদের ওষুধ সরবরাহ নেই।’

পুরুষ ওয়ার্ডে গতকাল ১৯ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি হয় ৪০ জন। ছবি: আজকের পত্রিকা
পুরুষ ওয়ার্ডে গতকাল ১৯ বেডের বিপরীতে রোগী ভর্তি হয় ৪০ জন। ছবি: আজকের পত্রিকা

চার নম্বর বেডের রোগী দেড় বছরের আব্দুর রহমানকে রোববার দুপুরে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এই শিশুর মায়ের নামও রুমিছা খাতুন। তিনি বলেন, ‘কোনো ওষুধ দিচ্ছে না। যা লিখে দিচ্ছে কিনে আনতেছি।’

ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বাকোশপোল গ্রামের রাশিদুল ও সুন্দলপুর গ্রামের জাকারিয়ার।

শিশু ওয়ার্ডের সেবিকা হুমায়রা বলেন, ‘আমাদের ডায়রিয়া রোগীর ট্যাবলেট, ক্যাপসুল আছে। রোগীরা সিরিয়াস অবস্থায় ভর্তি হলে ইনজেকশন দিতে হয়। কিন্তু ইনজেকশন সরবরাহ থাকে না।’

রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘ইনজেকশন সাপ্লাই না থাকলে দিতে পারব না। সাপ্লাই থাকলে বাইরের ওষুধ আমরা লিখি না। রোগীর স্বজনদের ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলার নেই।’

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু বলেন, ‘গরম ও হঠাৎ করে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় জ্বর ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ গত এক সপ্তাহ ধরে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেড়েছে। আমরা ৫০ শয্যার খাবার ও ওষুধ সরবরাহ পাই। কিন্তু লোকবল ৩১ শয্যার। বাড়তি রোগীর জন্য খাবার ও ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত