Ajker Patrika

দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘জীবিত’ ভেবে মরদেহ উত্তোলন, নেওয়া হলো হাসপাতালে

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: 
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৪৯
দাফনের ১২ ঘণ্টা পর ‘জীবিত’ ভেবে মরদেহ উত্তোলন, নেওয়া হলো হাসপাতালে
কবর থেকে উত্তোলনের পর মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দাফনের ১২ ঘণ্টা পর হালিমা খাতুন (৬৫) নামে এক নারীর মরদেহ কবর থেকে তুলে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, ‘জিনের আছর’-এর কারণে তাঁর মেয়ের দেওয়া ধারণার ভিত্তিতে মরদেহটি জীবিত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কবর থেকে তোলা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হালিমা খাতুন ওই গ্রামের মৃত সোহরাব আকন্দের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে হালিমা খাতুন মারা যান। পরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়।

স্বজনেরা জানান, দাফনের পর হালিমা খাতুনের মেয়ে সুলতানা (৪০), যিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘জিনের আছর’-এ আক্রান্ত বলে পরিবার দাবি করে আসছে, তিনি বলতে থাকেন তাঁর মা জীবিত আছেন। জিনের মাধ্যমে এমন তথ্য পেয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা রাত ৯টার দিকে কবর থেকে হালিমা খাতুনের মরদেহ উত্তোলন করেন। তিনি জীবিত আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রথমে মেলান্দহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে জামালপুর শহরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে রাতেই স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গ্রামে ফিরে যান এবং পুনরায় দাফন করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক সাকিব আল হাসান নাহিদ জানান, রাত ১টার দিকে হালিমা খাতুনের মরদেহ পুনরায় দাফন করা হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, দাফনের পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জীবিত থাকার ভুল ধারণা থেকেই স্বজনেরা মরদেহ উত্তোলন করেছিলেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত