Ajker Patrika

সাঁওতাল দিবস পালন, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
সাঁওতাল দিবস পালন, তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার দাবি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালন ও তিন সাঁওতাল হত্যার ন্যায়বিচারসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালপল্লিতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে এবং তিন সাঁওতাল হত্যার ন্যায়বিচারসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার বাগদা সাহেবগঞ্জ এলাকায় নিহতদের স্মরণে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মোমবাতি প্রজ্বালন ও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে বাগদা ফার্ম থেকে একটি শোক মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাঁটামোড় হয়ে সাহেবগঞ্জ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এরপর সাহেবগঞ্জ এলাকায় সাঁওতালরা সমাবেশ করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি গণেশ মুর্মু। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ কফি রতন, আদিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি রেবেকা সরেন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রীকান্ত মাহাতো, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রভাত টুডু, ভূমিহীন আন্দোলনের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলার আহ্বায়ক গোলাম রাব্বী মুসা এবং সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ বিমল বেসরা, জামিন হেমব্রন, ময়রা হেমব্রন, রুমিলা কিসকু ও ইলিকা টুডু প্রমুখ।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালন ও তিন সাঁওতাল হত্যার ন্যায়বিচারসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতাল হত্যা দিবস পালন ও তিন সাঁওতাল হত্যার ন্যায়বিচারসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বক্তারা বলেন, ঘটনার ৯ বছর পার হলেও মামলার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পিবিআই তদন্ত করে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৯০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও মূল আসামিসহ ১১ জনকে বাদ দেওয়া হয়। এতে ভিকটিম পক্ষ নারাজি দিলে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে সিআইডির দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীরা। নিহতদের স্বজনেরা আশা প্রকাশ করেন, সিআইডি নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বিনা নোটিশে রংপুর সুগার মিলস কর্তৃপক্ষ পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় গোবিন্দগঞ্জের জয়পুর ও মাদারপুর গ্রামে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসতবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ওই সময় হামলা, বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। গুলিতে ও নির্যাতনে নিহত হন তিন সাঁওতাল শ্যামল হেমরম, মঙ্গল মার্ডি ও রমেশ টুডু। আহত হন আরও অনেকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত