Ajker Patrika

জামিনে এসে হুমকি, স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে তিন মাসের সন্তান কোলে আদালত চত্বরে স্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি
জামিনে এসে হুমকি, স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে তিন মাসের সন্তান কোলে আদালত চত্বরে স্ত্রী
আজ দুপুরে ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্বরে মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরের সালথায় বিএনপি কর্মী পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির (৩৮) হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আসামিদের জামিন বাতিল, গ্রেপ্তার ও হত্যার বিচার দাবিতে তিন মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালত চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম।

আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর জজ কোর্ট চত্বরে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ মানববন্ধন করেন। এতে নিহতের স্ত্রী, বড় ছেলে রুমন ফকিরসহ পরিবারের সদস্য এবং অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী অংশ নেন। এ সময় নিহতের স্ত্রীর আহাজারি দেখে আদালতে আসা অন্যরাও মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে পড়েন।

নিহত পান্নু ফকির ওরফে জামু রহমান ফকির যদুনন্দী ইউনিয়নের কুমারকান্দা গ্রামের আব্দুর রহমান ফকিরের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি বিএনপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গত ২৫ জুন রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে যদুনন্দী সড়ক থেকে হাত-পায়ের রগ কাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মো. রুমন ফকির (২২) বাদী হয়ে সালথা থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সিদ্দিক মাতুব্বরের সঙ্গে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পান্নু ফকিরের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন পুলিশ তাঁকে থানায় ডেকে নেয়। রাতে থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিদ্দিক মাতুব্বরের নেতৃত্বে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে তাঁদের দাবি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সালথা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ রায় জানান, মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে অন্য আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন ৪২ দিনের জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়জন আসামি নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁদের মধ্যে সাতজনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান এবং মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুর রউফ মোল্যা ও ২ নম্বর আসামি সিদ্দিক মাতুব্বরকে জামিন দেন। অন্য পাঁচজন পুনরায় উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছেন।

নিহতের স্ত্রী রুপা বেগম বলেন, ‘আমার তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাব, কার কাছে বিচার চাইব? যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, তারা জামিনে এসে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসে তাঁকে ও তাঁর সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন।

রুপা বেগম বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ আপার কাছে বিচার চাই। আমার স্বামীকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, আমি হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে চাই।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আরও অভিযোগ করেন, মামলার অন্যতম আসামি সিদ্দিক মাতুব্বর জামিনে এসে সাক্ষীদের ডেকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্য আসামিরাও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘জামু জন্মগতভাবেই বিএনপিকে ভালোবাসতেন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক ফকির জামুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে আমরা মনে করি। তাঁর পরিকল্পনাতেই রাতে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এখন তাঁকেই আদালত জামিন দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্দিক মাতুব্বর এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাঁর জামিন বাতিলের দাবি জানাই।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যার বিচার, জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিল এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত