Ajker Patrika

চাকরি-কিশোর গ্যাং, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে অন্য যোগসূত্র খুঁজছেন মা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
চাকরি-কিশোর গ্যাং, অপ্রতিম হত্যার নেপথ্যে অন্য যোগসূত্র খুঁজছেন মা
মায়ের সঙ্গে অপ্রতিমের এই ছবি এখন কেবলই কাঁদাচ্ছে নাহিদা বেগমকে। ফাইল ছবি

স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দুটি ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগম। একটি হলো, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে মামলার অন্যতম আসামি ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরের কাজ শুরু করা। অন্যটি, নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালে কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে আজ সোমবার বেলা ১১টায় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত শোকমিছিল ও মানববন্ধনে নাহিদা বেগমের সন্দেহ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার।

ড. কামরুন নাহার বলেন, ‘গতকাল রাত ১২টা পর্যন্ত আমি ম্যাডামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে কয়েকটি বিষয় জানিয়েছেন। সেগুলো তদন্ত করে দেখার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।’

কামরুন নাহার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির একজন ওই কিশোর। ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে সে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করে। এছাড়াও নাহিদা বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। নাহিদা বেগমের দাবি, তাঁদের মধ্যে দুজন প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের (১৯) গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন।

কামরুন নাহার বলেন, ‘ম্যাডাম চান, পুলিশ তদন্ত করে বের করুক, এসব ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না। বিশেষ করে, আগের কোনো ঘটনার প্রতিশোধ নিতে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

গ্রেপ্তার দুই আসামিকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাহিদা বেগম। তাঁদের প্রকৃত বয়স যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়সসংক্রান্ত বিষয়টি যাচাইয়ের কথাও বলেছেন বলে জানান কামরুন নাহার।

অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন, শিক্ষক সমিতির নেতারা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা।

অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর এক কিশোর তার বাবা-মাকে নিয়ে তাঁর অফিসে আসে। তখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ও মাঠপর্যায়ে কাজের জন্য লোক নেওয়া হচ্ছিল।

ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘ ওই কিশোরকে কাজ দেওয়ার আগে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়। প্রথমে তার কাজ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করে পরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করার কথা ছিল। গত ৮ সেপ্টেম্বর ওই কিশোর কাজে যোগ দেয়।’

মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে দুই কিশোরকে কুমিল্লা কারাগার থেকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাদের সেখানে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা কারাগারের জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, ‘রোববার রাতে চার আসামিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ (১৯) তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত দুজনকে শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেন, আইফোনের লোভেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি এ কথা জানান।

তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা ধার দেওয়া নিয়ে বিরোধের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এক কিশোরকে অপ্রতিম পাঁচ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে।

আইফোন ও টাকা নিয়ে বিরোধের বাইরে হত্যাকাণ্ডের অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অপ্রতিমের মা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা এ হত্যা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছি। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে আমাদের কাজ শেষ হয়ে যায়নি। আমরা সার্বিক বিষয় নিয়ে এখনো কাজ করছি। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কী কী তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখছি। অপ্রতিমের মায়ের সন্দেহের বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত