Ajker Patrika

মোহাম্মদপুরের অ্যালেক্স ইমন হত্যা: বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৫ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মোহাম্মদপুরের অ্যালেক্স ইমন হত্যা: বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ ৫ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলোচিত কিশোর গ্যাং লিডার অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব-২ এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) নয়মুল হাসান প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নয়মুল হাসান জানান, শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি ও সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—মো. হৃদয় (২৩), সুজন (২২), সোহেল ওরফে চায়না সোহেল (২৬) এবং রাব্বী ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বী (২২)।

র‍্যাব জানায়, গত ১২ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বেড়িবাঁধ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাং লিডার অ্যালেক্স ইমনকে প্রকাশ্যে রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

র‍্যাব-২ জানায়, শুক্রবার ভোরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের কোলচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। একই এলাকা থেকে সুজন ও সোহেল ওরফে চায়না সোহেলকে দুটি তরবারি ও তিনটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাব্বী ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীকে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি সামুরাইসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি জহিরুল ইসলাম রিপোলও বিপুলকে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, মামলা হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে অ্যালেক্স ইমন হত্যা মামলায় র‍্যাব-২ পাঁচজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে র‍্যাব। এর মধ্যে জহিরুল ইসলাম রিপোল ওরফে বিপুলের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, দস্যুতা, মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে পাঁচটি এবং কিশোরগঞ্জের ইটনা থানায় চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে।

সুজনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্তুতির সাতটি এবং ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রয়েছে। সোহেল ওরফে চায়না সোহেলের বিরুদ্ধে দস্যুতা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের চারটি মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া হৃদয়ের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও খুনের দুটি এবং ইটনা থানায় চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি মামলা রয়েছে। রাব্বী ওরফে পিঞ্জিরা রাব্বীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দুটি মামলা রয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত