Ajker Patrika

মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা মামলায় ২১ আসামির বিচার শুরু

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৭: ১৪
মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যা মামলায় ২১ আসামির বিচার শুরু
মিটফোর্ড এলাকায় সোহাগের ওপর হামলার ঘটনার চিত্র। ফাইল ছবি

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে পাথর মেরে হত্যার মামলায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তাঁরা হলেন মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ওরফে মাহমুদুল হাসান (মহিন), মো. তারেক রহমান রবিন, মো. টিটন গাজী, মো. আলমগীর, মো. মনির ওরফে লম্বা মনির, মো. সজীব ব্যাপারী, মো. নানু কাজী, মো. রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু, মো. জহিরুল ইসলাম, সাগর, মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন, মো. পারভেজ, মো. জহিরুল ওরফে জলিল, মো. ইমরান, মো. শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, মো. জিয়াউদ্দিন রাজিব, মো. হোসেন চৌকিদার, মো. সারোয়ার হোসেন টিটু, মো. মঙ্গল মিয়া ওরফে মনির হোসেন ও অপু দাস।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ১০ জন কারাগারে এবং শেষের আটজন পলাতক রয়েছেন। আসামি মো. রুমান ব্যাপারী, মো. আবির হোসেন ও মো. পারভেজ জামিনে আছেন।

অভিযোগ গঠন শুনানির সময় কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনপ্রাপ্ত আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে সেখানে উপস্থিত আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে আঘাত করে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম ১৯ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে পাকা রাস্তার ওপর একদল লোক ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে (৩৯) পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় পরদিন ১০ জুলাই নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর এই মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার (বর্তমানে শাহবাগ) পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু চার্জশিটে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকায় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে সেটা সংশোধনের জন্য আবার নির্দেশ দেন। পরে আবারও ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১০ মে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।

নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসা করে আসছিলেন। ভাঙারি ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তদন্তে পাওয়া যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত