Ajker Patrika

আশুলিয়ায় যুবক হত্যা: দেড় বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ২০: ৫৩
আশুলিয়ায় যুবক হত্যা: দেড় বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের
নিহত হাসিবুল ইসলাম জনি। ছবি: পিবিআই

ঢাকার আশুলিয়ায় এক যুবককে হত্যার পর তাঁর মরদেহ পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রায় দেড় বছর পর হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার পিবিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে আশুলিয়ার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় নাজমুল হোসেনের একটি পুকুর থেকে হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) নামের এক যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বাবা মো. শহিদুল ইসলাম ১৮ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরে এটি পিবিআইয়ের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পিবিআই ঢাকা জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ঢাকা জেলার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহবুব হোসেন।

গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: পিবিআই
গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: পিবিআই

তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি শাহ জালাল সরকারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৮ জুন দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকা থেকে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে আরেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে শাহ জালাল সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত ও জবানবন্দি থেকে পিবিআই জানতে পারে, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে জনিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার দিন জনি তাঁর বন্ধু সোহাগ ও রানার সঙ্গে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় শাহ জালাল সরকার, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে জনিকে আটক করে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে জনির মৃত্যু হলে হত্যার প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে তাঁর মরদেহ একটি পুকুরে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

পিবিআই জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত চলমান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত