Ajker Patrika

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী: প্রথম ধাপে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন ১০ হাজার জন

  • অবসরপ্রাপ্তদের আগামী মাসের মাঝামাঝি অর্থ দেওয়া শুরু হবে।
  • ৬৪,০০০ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অনিষ্পন্ন।
  • কল্যাণ সুবিধার অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৯৬৬টি।
  • এই দুই সুবিধার জন্য ২,০০০ কোটি টাকার বন্ড বরাদ্দ সরকারের।
রাহুল শর্মা, ঢাকা 
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০১: ৪৮
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী: প্রথম ধাপে অবসর-কল্যাণের 
টাকা পাচ্ছেন ১০ হাজার জন
ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরবর্তীকালে দ্রুততম সময়ে এ সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তহবিল সংকট, সফটওয়্যার জটিলতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় দীর্ঘদিন এই কার্যক্রম প্রায় স্থবির ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক দুর্ভোগ কমবে এবং দীর্ঘদিনের আবেদনজটও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সম্মতি পাওয়ার পর শিগগির একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম ধাপের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের পর যেসব শিক্ষক অবসর ভাতা পাননি, তাঁদের জন্য জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে অর্থ বিতরণ শুরু হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে অবসর ভাতার বকেয়া অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেতে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসরের পর মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকে জীবদ্দশায় প্রাপ্য অর্থ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও হতাশা রয়েছে।

জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সব জটিলতা কাটিয়ে শিক্ষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে শিগগির অবসর সুবিধার অর্থ বিতরণ শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুততম সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সব আবেদন নিষ্পত্তি করা।’

এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৯৯০ সাল থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ২০০৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে অবসর সুবিধা দেওয়া। এই দুই সুবিধা বাবদ শিক্ষকেরা চাকরিকাল অনুযায়ী এককালীন অর্থ পান। সারা দেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৬ লাখের বেশি।

আইন অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) থেকে চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে রাখা হয়। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ শতাংশ পায়। এর বাইরে বিশেষ বা থোক বরাদ্দ এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের দেওয়া সিড মানি বা গচ্ছিত অর্থের লভ্যাংশ পায় সংস্থা দুটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অবসর বোর্ডের সফটওয়্যার জটিলতা, পরিচালনা পর্ষদ না থাকা এবং তহবিল সংকটের কারণে অবসর সুবিধার অর্থ বিতরণ কার্যত বন্ধ ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮ মে ‘অষ্টম পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হয়। ২১ সদস্যের এই পরিষদ আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। সম্প্রতি এ বোর্ডের সভা হয়েছে।

সূত্র বলছে, তহবিল সংকট নিরসনেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বন্ড বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটেও এ খাতে অতিরিক্ত ২০০ কোটি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদনকারীরা অবসর সুবিধার অর্থ পেয়েছেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১৭টি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৫১৯ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি অসুস্থতা, পবিত্র হজ ও তীর্থসংক্রান্ত কিছু আবেদনও নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে।

কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আবেদনকারীরা কল্যাণ সুবিধার অর্থ পেয়েছেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৯৬৬টি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। বর্তমানে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন হবে ২৯৭ কোটি টাকা।

জানতে চাইলে মঙ্গলবার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে। আশা করছেন, প্রথম ধাপে দুই প্রতিষ্ঠানের (অবসর ও কল্যাণ) মাধ্যমে ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ পাবেন। পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত