Ajker Patrika

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে এআই দিয়ে পাঠদানের প্রদর্শনী করল এক্সামবাইনারি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ২৩: ৫০
মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে এআই দিয়ে পাঠদানের প্রদর্শনী করল এক্সামবাইনারি

রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্কুল পর্যায়ে দেশের প্রথম এআই প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা প্রদর্শনী। গতকাল রোববার (১৬ নভেম্বর) প্রদর্শনীটির আয়োজন করে আধুনিক এআই প্রযুক্তিভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এক্সামবাইনারি লিমিটেড। তথ্যভিত্তিক শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সম্পূর্ণ এআই প্রযুক্তি নির্ভর ইন্টারফেসের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে এ প্ল্যাটফর্ম।

প্রত্যক শিক্ষার্থীর জন্য এআই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যক্তি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন অংশ নেন শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার তুলে ধরার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ‘এক্সামবাইনারি ফিউচার-রেডি অ্যাডাপ্টিভ লার্নিং উইথ এআই’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়। কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার্থীদের শেখার ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে তা নিয়ে সেমিনারে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে এক্সামবাইনারি প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) রাকিব সালেহ এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা সারজাহ ইয়াসমিন তাদের উদ্ভাবিত মাস্টারি লুপ ও উইকনেস ম্যাপিং প্রযুক্তি সবার সামনে উপস্থাপন করেন। প্ল্যাটফর্মটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দুর্বলতার জায়গাগুলো খুঁজে বের করে, সে অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। সেমিনারে দেখানো হয় কীভাবে অত্যাধুনিক এ প্ল্যাটফর্মে এআই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেকচার প্ল্যান, ওয়ার্কশিট ও প্রোগ্রেস রিপোর্ট তৈরি করে দিবে। শিক্ষকদের কাজের চাপ কমিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করাই এক্সামবাইনারির অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি, এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মা-বাবারা জানতে পারবনে তাদের সন্তানেরা অ্যাকাডেমিক লক্ষ্য অর্জনে কতোটুকু এগোল বা তাদের বর্তমান অবস্থা কী।

এ বিষয়ে এক্সামবাইনারি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও রাকিব সালেহ বলেন, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ব্যক্তি বিশেষায়িত শিক্ষা দেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করে তুলবে। তারা একবিংশ শতাব্দীর লার্নিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নিজেদের অ্যাকাডেমিক যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তোলার সুযোগ পাবেন। আর এ লক্ষ্যেই যাত্রা শুরু করে এক্সামবাইনারি। আমার চাই, দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী তাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী বিকশিত হোক। পাশাপাশি, শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও যেন প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের এ যাত্রায় সক্রিয় সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারেন।

এক্সামবাইনারি লিমিটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা সারজাহ ইয়াসমিন বলেন, এক্সামবাইনারির যাত্রা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমাদের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবেন, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন এবং বৈজ্ঞানিক ও তথ্যভিত্তিক পদ্ধতিতে ধারাবাহিক উন্নয়ন করতে পারবেন। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বমানের শিক্ষা সবার জন্য সহজলভ্য কররে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীই নয়, পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও এক্সামবাইনারি প্ল্যাটফর্ম থেকে উপকৃত হবেন।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য অল-ইন-ওয়ান স্যলুশন এক্সামবাইনারি। প্ল্যাটফর্মটিতে মক ইন্টারভিউ দেয়া যাবে এবং বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে সমাধান নিয়ে কাজ করা যাবে। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে টেস্ট ফিচার, যেখানে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও দুর্বলতার জায়গা চিহ্নিত করে দেয়া হবে।

এক্সামবাইনারি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা অ্যাডাপ্টিভ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে শিখতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটিতে তাদের জন্য রয়েছে প্র্যাকটিস সেশনের ব্যবস্থা এবং তা ট্র্যাক রাখার সুযোগ। এসব সুবিধার ফলে শিক্ষার্থীরা আরও দ্রুত ও কার্যকরীভাবে অ্যাকাডেমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারবেন। শিক্ষকেরা এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এনসিটিবি কারিকুলাম অথবা বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী হোমওয়ার্ক ও লেকচার পরিকল্পনা করতে পারবেন।

অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিত শিক্ষার্থী তথ্য ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে, থাকবে রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট টুলস, স্বয়ংক্রিয় প্রশাসনিক কাজের ধারা। সার্বিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম হবে আরও দক্ষ এবং শিক্ষা প্রতিহঠানের উন্নয়নে আরও কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে। আর অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পাবেন, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন, পারফরমেন্স অ্যানালিটিকস পাবেন ও লাইভ প্রোগ্রেস ট্র্যাকিং করতে পারবেন। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাযাত্রাকে আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারবেন।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের ছয়টি প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এক্সামবাইনারি এবং বাংলাদেশে প্রথমবারের মত চালু করেছে মাস্টারি-বেইজড এআই লার্নিং আর্কিটেকচার। বর্তমানে, প্ল্যাটফর্মটিতে সক্রিয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

কালিয়াকৈরে যুবককে গাছে বেঁধে হাতুড়িপেটা, আটক ১

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) সংবাদদাতা
যুবককে গাছে বেঁধে মারধর। ছবি: সংগৃহীত
যুবককে গাছে বেঁধে মারধর। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় কুরবান আলী নামের এক মোটর মেকানিককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় টান কালিয়াকৈর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে আটক ব্যক্তিকে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দিনদুপুরে ওই যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হচ্ছে। তবে হাতুড়িপেটার শিকার ওই যুবকের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

অভিযুক্ত ব্যক্তি দিনাজপুর সদর উপজেলার বিশ্বনাথপুর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে কুরবান আলী (৩২)। প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি কালিয়াকৈরের চাপাইর এলাকায় বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। তিনি একটি বাসের মালিক বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় একটি নারকেলগাছের সঙ্গে যুবকটিকে ‘চোর’ বলে বেঁধে রাখা হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫ থেকে ৩৫ মিনিট তাঁকে একইভাবে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও তুললেও কেউ তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। পরে আহত যুবককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু এর পর থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, হাতুড়িপেটার ঘটনায় আহত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে আজ গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হবে।

কুরবান আলীর কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যের বরাতে ওসি বলেন, কুরবান আলীর একটি বাস রাজধানী পরিবহন কোম্পানির অধীনে চলাচল করে। গাড়িটির মূল চালক কিছুদিন আগে হাতুড়িপেটার শিকার ওই যুবককে বদলি হিসেবে চালাতে দিয়েছিলেন। এই সুযোগে তিনি ঢাকার মিরপুরে নিয়ে বাসটি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে মূল চালক সেটি উদ্ধার করে মালিককে বুঝিয়ে দেন। বদলি চালক গতকাল এলাকায় গেলে তাঁকে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পেটান কুরবান আলী। মারধরের শিকার যুবকের বাড়ি উত্তরবঙ্গে। তবে মূল ভুক্তভোগীকে পেলে এর সত্যতা জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

শিশু সাজিদের শেষ বিদায়ে হাজারো মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
শিশু সাজিদকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা
শিশু সাজিদকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকালের আলো ফোটার আগেই কোয়েলহাট পূর্বপাড়া থমকে যায়। মসজিদের মাইকে বারবার ভেসে আসে শিশু সাজিদের জানাজার খবর। দুদিন ধরে শোকে স্তব্ধ গ্রামের বাতাস আরও ভারী হয়ে ওঠে এ ঘোষণায়। হাজারো মানুষ চোখের পানি ফেলেন তাকে দেখতে এসে।

সকাল সাড়ে ১০টায় গ্রামের মাঠে জানাজা হয় দুই বছরের শিশু সাজিদের। এরপর দাফন করা হয় পাশের গোরস্তানে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার এ গ্রামের রাকিবুল ইসলামের শিশুসন্তান সাজিদ গত বুধবার দুপুরে গভীর নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় মাটির ৫০ ফুট গভীর থেকে।

আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে জানাজা শেষে তাকে নেককিড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে সবাই এক পথে চলতে থাকেন সাজিদের বাড়ির দিকে।

সাজিদের ছোট দেহটি জানাজার জন্য মাঠের দিকে নিয়ে যাওয়ার আগে বাড়িতে আবার কান্নার ঢেউ ওঠে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ, বিশেষ করে তার মায়ের আকুতি মানুষকেও কাঁদায়। তিনি বারবার ছুটে যেতে চাইছিলেন সন্তানকে ছুঁয়ে দেখতে, জড়িয়ে ধরতে, কিন্তু তাঁকে ধরে রেখেছিলেন আশপাশের নারীরা। তবে থামাতে পারেনি তাঁর বুকফাটা আর্তনাদ।

গ্রামের মাঠে জানাজায় মানুষের ঢল নামে। কষ্ট নিয়ে গ্রামের বৃদ্ধ, তরুণ, স্কুলপড়ুয়া শিশু—সবাই এতে অংশ নেয়। জানাজার নামাজ পড়ান কাজী মাওলানা মিজানুর রহমান। পরে গোরস্তানে মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে সবাই ছোট্ট শিশুটির জন্য হাত তুলে দোয়া করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

সাতসকালে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত ২

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
নিহত রোমান। ছবি: সংগৃহীত
নিহত রোমান। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মোহাম্মদ রোমান (২০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন। আজ শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা এলাকায় চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রোমান পৌর এলাকার পূর্ব চরকুমিরা গ্রামের জমাদার বাড়ির জসিম জমাদারের ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন চরকুমিরা গ্রামের আ. রফিকুল হকের ছেলে বাপ্পি (১৮) ও আ. রাজ্জাকের ছেলে সোহাগ (১৭)। তাঁরা চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ সকালে চরকুমিরা চিশতিয়া জামে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের পরে ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তায় মাছ কেনার জন্য পায়ে হেঁটে রওনা দেন রোমানসহ কয়েকজন। ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তাসংলগ্ন শীতল পাটোয়ারী বাড়ির সামনে এলে পেছন দিক থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান তাঁদের চাপা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোমানকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ এবং চালক ইমরান (২৬) ও তাঁর সহযোগী মো. ইকরামকে (২৩) আটক করেছে।

পুলিশ জানায়, ইমরান ও ইকরাম দুই ভাই। তাঁরা ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার উত্তমাবাদ গ্রামের আনসার হাওলাদারের ছেলে।

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় টাইলসমিস্ত্রি গ্রেপ্তার

রংপুর প্রতিনিধি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে নিজ বাড়িতে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোরছালিন (২২)। তিনি পেশায় একজন টাইলসমিস্ত্রি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবু সাইয়ুম তালুকদার জানান, হত্যার দুই দিন আগে মোরছালিন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে টাইলস লাগানোর কাজ করেন।

আজ শুক্রবার মোরছালিনকে নিয়ে পুলিশ যোগেশ চন্দ্রের বাড়ির পাশে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে যাবে বলে জানা গেছে।

গত শনিবার রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের রহিমাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরদিন রোববার সকালে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাঁদের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। এ ঘটনায় বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেই মামলার অগ্রগতি হিসেবে এ পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করল।

তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই জানানো হচ্ছে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত