Ajker Patrika

এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ: জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে বাসে ফিরছিলেন ইসমাইল

ঢামেক প্রতিবেদক
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ৩২
এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ: জমি বিক্রির টাকা নিয়ে জামালপুর থেকে বাসে ফিরছিলেন ইসমাইল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে উদ্ধার হওয়া মুখে স্কচটেপ লাগানো মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর জানা গেছে, নিহত ইসমাইল হোসেন (৫০) জমি বিক্রি করতে জামালপুর গিয়েছিলেন। সেই টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে বাসে করে গাজীপুরে আসার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, পথে তাঁর সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে স্বজনেরা ইসমাইলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে, গতকাল শুক্রবার সকালে বনানীতে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়।

নিহতের ছেলে মো. হাসান বলেন, তাঁদের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। বর্তমানে তাঁরা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় থাকেন। তাঁর বাবা ইসমাইল আগে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন।

তবে গতকাল পুলিশ জানিয়েছিল, ইসমাইল হোসেন পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি পরা ছিলেন তিনি।

হাসান জানান, তাঁর ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের পরিবারের অনেক ঋণ ছিল। এসব কারণে প্রায় চার মাস আগে তাঁদের গাজীপুরে রেখে একা গ্রামের বাড়িতে যান তাঁর বাবা। পরে বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং বাড়িতে ঘর নির্মাণ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।

হাসান জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সঙ্গে তাঁর বাবার শেষ কথা হয়। তখন ইসমাইল জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার বাসে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবাকে নিতে আশুলিয়ার জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যান তিনি। সেখানে গিয়ে বাবাকে ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পান। পরে বাসায় ফিরে যান। এরপর গতকাল দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন, তাঁর বাবার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পাওয়া গেছে।

নিহতের ভাতিজা মো. মোকাদ্দেস জানান, ইসমাইলের জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাওয়ার কথা ছিল। সেক্ষেত্রে তাঁর ঢাকায় আসার কোনো কারণ ছিল না। তাঁদের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা চক্র তাঁর সঙ্গে টাকা থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে অপহরণ করে। পরে হত্যা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ গোপন করার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে যেতে পারে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে কোনো একটি গাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হতে পারে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত