
দুপুরের পাতে দুই বাটি ভাত, একটু করে ডাল ও সবজি আর এক টুকরা মুরগির মাংস। খাবারের তালিকায় দৃশ্যত কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু মুখে তুলতেই আসবে হতাশা। মাংসের তরকারিতে স্বাদ নেই। ডাল যেন হলুদ গোলা পানি—তাতে ডালের দানা খুঁজে পাওয়া কঠিন। লাউ, পেঁপে কিংবা আলুর সবজিও বিস্বাদ। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হনুফা আক্তারের (ছদ্মনাম) সঙ্গে কথা বলে তাঁর এই মত পাওয়া গেল। ওয়ার্ডের রোগীদের মধ্যে তাঁর কথায় সায় দেওয়ার লোকেরও অভাব হয়নি।
যকৃতের জটিলতা নিয়ে এক মাসের বেশি সময় ধরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ভর্তি হনুফা। কয়েক দিন আগে সার্জারি বিভাগের ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। চিকিৎসার জন্য দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় এসেছেন হনুফা। রাজধানীতে ঘনিষ্ঠ কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। ফলে হাসপাতালের খাবারের ওপরই নির্ভর করতে হয়েছে তাঁকে।
হনুফা জানান, সকালে তাঁকে তিন পিস রুটি, একটি কলা ও একটি ডিম দেওয়া হয়। বিকেলে চার পিস বিস্কুটের একটি প্যাকেট। দুপুরে ভাত, ডাল, সবজি ও মাংস এবং রাতে ভাত, মাছ ও ডাল দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালের রান্না করা খাবার মুখে একেবারেই রোচে না বলে কখনো কখনো এ শহরে থাকা গুটিকয়েক স্বজনের ওপর ভরসা করতে হয়। প্রায়ই বাইরে থেকে খাবার কিনেও আনেন। লম্বা সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে এ বাড়তি খরচ তাঁর সীমিত আয়ের সংসারের ওপর চাপ তৈরি করছে।
হনুফা বেগমের মতোই অভিজ্ঞতা জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা আকবর হোসেনের (ছদ্মনাম)। পিত্তথলির সমস্যার জন্য তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে। সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের ৭০৩ নম্বর ওয়ার্ডের রোগী আকবর জানান, সকালে ছয় পিস রুটি, একটি ডিম ও একটি কলা দেওয়া হয়। দুপুরের মেনুতে থাকে ভাত, লাউ-আলুর সবজি, ডাল ও মুরগি এবং রাতে ভাত, ডাল ও রুই মাছ। পদ নিয়ে সমস্যা নেই। সমস্যা একটাই—খাবার নিতান্ত স্বাদহীন। আকবরের ভাষ্য, একজন রোগীর এ খাবার খেয়ে সহজে সুস্থ হওয়ার কথা নয়।
দেশের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ খুব বেশি নয়। ২০০৯ সালে তা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা এবং ২০১৩ সালে ১২৫ টাকা করা হয়েছিল। তার প্রায় এক দশক পর ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর বরাদ্দ বেড়ে ১৭৫ টাকা হয়। ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাদ দিলে কার্যকর বরাদ্দ থাকে ১৪৮ টাকা ৭৫ পয়সা। এই অর্থের মধ্যেই একজন রোগীর তিন বেলার খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।
২০১৩ সালের ‘ডায়েট স্কেলে’ সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবারের বিধান ছিল। সকালের নাশতায় ১৫০ গ্রাম পাউরুটি, চার ইঞ্চির একটি কলা, ২০ গ্রাম চিনি ও একটি সেদ্ধ ডিম; দুপুর ও রাতে এক কেজি ওজনের রুই বা কাতলা মাছের ১৪০ গ্রামের একটি টুকরা অথবা ৩৪০ গ্রাম মুরগির মাংসের সঙ্গে ৩৪০ গ্রাম ভাত, ৪০ গ্রাম মসুর ডাল ও ৪০০ গ্রাম সবজি দেওয়ার কথা। তবে কাগজে-কলমে নির্ধারিত এই পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবে রোগীর প্লেটে কতটা খাবার পৌঁছায়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম ও স্বাদহীন খাবার দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এই প্রতিবেদনের জন্য রাজধানীর চারটি সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাদের খাবার সরেজমিনে দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের একটি বিশেষায়িত, একটি জেনারেল ও একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের খাবারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তথ্য নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোগীদের খাবারের ব্যবস্থা করে। প্রতিবছর দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অঞ্চলভেদে চাল, মাছ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামে পার্থক্য থাকায় দরপত্রের মূল্য সারা দেশের জন্য এক নয়। এই কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে শয্যার বিপরীতে রোগীর পথ্য বরাদ্দ থাকে। আর টারশিয়ারি বা বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে পথ্য দেওয়া হয়। ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নির্ধারিত শয্যার বাইরে ভর্তি রোগীদের খাবারের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকে না।
দেশের পুষ্টিবিদদের মতে, হাসপাতালের পথ্য শুধু খিদে মেটানোর জন্য নয়, রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ারও অংশ। রোগীর বয়স, রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। এতে প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও তরল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাবার হতে হবে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজপাচ্য। রোগভেদে খাদ্যতালিকায়ও পরিবর্তন প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখা অন্যতম প্রতিষ্ঠান জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের মতে, রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিবিদদের পরামর্শে খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ হাজার ২০০ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তির হার ১৫০ শতাংশের বেশি। গত বছরজুড়ে এখানে ভর্তি হয়েছে মোট তিন লাখের বেশি রোগী। এ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন রোগীদের খাদ্যের বিষয়ে বলেন, ‘টেন্ডারের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান খাদ্যের উপকরণগুলো সরবরাহ করে। হাসপাতালের কর্মীরা সেগুলো রান্না ও বিতরণ করেন। ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ ও মান যাচাই করে সরবরাহ নেওয়া হয়। নির্ধারিত বাজেটের অতিরিক্ত রোগী হলে বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজন হতে পারে।’
ওই হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ভান্ডার) ডা. দেবপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, ১৭৫ টাকার মধ্যেই তিন বেলার খাবার সমন্বয় করা হয়। ডায়েট চার্ট অনুযায়ী খাবারের ধরনে পরিবর্তন হতে পারে।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ‘সাধারণ ডায়েটে সকালে রুটি, কলা ও সেদ্ধ ডিম; দুপুরে ভাত, ডাল ও মাছ বা মাংস এবং রাতে মাছ বা মাংস ও সবজি দেওয়া হয়। হাই-প্রোটিন ডায়েটে প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ ও ডিম বাড়ানো হয়।’ তাঁর দাবি, নির্ধারিত রোগীসংখ্যা অনুযায়ী মাছ-মাংসের মোট ওজন হিসাব করে পিস করা হয় এবং রান্নার আগে ও পরে খাবারের পরিমাণ যাচাই করা হয়। পিসের আকারে পার্থক্য থাকলে ছোট পিসের ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে শয্যা ও ডায়েটের সংখ্যায় পার্থক্য থাকলে কখনো কখনো সব রোগীকে খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানান ডা. শহীদুল্লাহ দেওয়ান। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাবার দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, বিশেষায়িত হাসপাতালে সাধারণত ভর্তি রোগীর সংখ্যার ভিত্তিতে ডায়েট দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সারা বছরের জন্য ডায়েট বরাদ্দ থাকে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের ৫০ শয্যার হাসপাতালে ডায়েট বরাদ্দ হয় শয্যার ভিত্তিতে, ভর্তি রোগীর সংখ্যা দেখে নয়। সকালে সাধারণত তিন পিস পাউরুটি, একটি কলা ও একটি ডিম দেওয়া হয়। হাই-প্রোটিন ডায়েটে দুধ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ডিম দেওয়া হয়। দুপুরে ভাত, মুরগি, ডাল ও সবজি এবং রাতে মুরগি বা মাছ থাকে।
রোগীপ্রতি খাবারের বরাদ্দ ও পরিমাণ বিষয়ে রাজধানীর চারটি সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালসহ দেশের অন্তত ১০টি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বিশেষায়িত হাসপাতালে যাওয়া হয়েছে বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১৭৫ টাকা বরাদ্দের মধ্যেই রোগীদের তিন বেলার খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালের স্তর, শয্যা ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা এবং ডায়েটের ধরন অনুযায়ী খাবার বিতরণে পার্থক্য রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মতে, একসময় সরকারি হাসপাতালে সাত ধরনের ডায়েটের ব্যবস্থা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। রোগ ও শারীরিক অবস্থাভেদে খাবারের ধরন ও পরিমাণে যে পার্থক্য প্রয়োজন, তা এখন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তাঁদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ক্যালরি প্রয়োজন হলেও রোগভেদে খাদ্যচাহিদা ভিন্ন। তাই রোগীদের জন্য অন্তত তিন ধরনের ডায়েট থাকা প্রয়োজন। তবে বর্তমান আর্থিক বরাদ্দে খাবারের পরিমাণ ও মান বাড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তাঁরা।
জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল মনে করেন, রোগীর পথ্যকে চিকিৎসার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। তাঁর মতে, হাসপাতালের খাবারের মান বিচার করতে শুধু বরাদ্দের অঙ্ক দেখলে হবে না; বরাদ্দের অর্থে রোগীর পাতে কী দেওয়া হচ্ছে এবং তাতে রোগীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি কতটা মিটছে, তা-ও বিবেচনায় নিতে হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, রোগীপ্রতি তিন বেলা খাবারের বরাদ্দ ২৫০ টাকা করতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থে কোনো ভ্যাট থাকবে না। দ্রুতই প্রস্তাবটি অনুমোদন হবে।

স্বাস্থ্য খাতে জনবল-সংকট নিরসনে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
৬ ঘণ্টা আগে
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত শূকরের একটি কিডনি রেকর্ড ২৭১ দিন সচল ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকেরা। মানুষের শরীরে শূকরের অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত দীর্ঘতম সময়। টিম অ্যান্ড্রুজ নামে ওই রোগী জানান, এই কিডনি প্রতিস্থাপন তাঁকে নতুন জীবনের আশা দিয়েছিল।
১৩ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮৭ জন মারা গেছে আর হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ জন।
১ দিন আগে