Ajker Patrika

সোমালিয়ায় গোপন ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সোমালিয়ায় গোপন ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের, নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত
পুন্টল্যান্ডের বারি অঞ্চলে আইএস জঙ্গিদের মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা বাহিনীর একদল সৈন্য। ছবিটি ২০২৫ সালের। ছবি: সংগৃহীত

সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের বন্দরনগরী বসাসোতে নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, এই ঘাঁটি থেকে আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি বিমান হামলা, নজরদারি অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালিত হবে।

মার্কিন আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও পুন্টল্যান্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ওই অঞ্চলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান সামরিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ নয়, উত্তর সোমালিয়ায় নতুন সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠারও অংশ। একই সঙ্গে সিআইএ বসাসোতে তাদের কার্যক্রম বাড়াবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

ড্রোন হামলার পর নতুন পরিকল্পনা

গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর পুন্টল্যান্ডের আল-মিসকাদ পর্বতমালার টোগা মিরালে ও টোগা বালাদে এলাকায় মার্কিন নজরদারি ড্রোন উড্ডয়ন করা হয়। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আইএস জঙ্গিদের শনাক্ত করার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়। একই দিনে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আল-মাদো পাহাড়েও আল-শাবাবের বিরুদ্ধে নজরদারি অভিযান চলে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ বসাসো

গালফ অব এডেনের তীরে অবস্থিত বসাসো শহর মানবপাচার ও শরণার্থী চলাচলের অন্যতম প্রধান রুট। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য এই জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে আইএসবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেনের সামুদ্রিক নিরাপত্তাও নতুন ঘাঁটির অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

গোপন চুক্তির অভিযোগ

গত ২ আগস্ট আফ্রিকমের একটি প্রতিনিধি দল পুন্টল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আবদুল্লাহি দেনির সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর পুন্টল্যান্ড সরকার এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বসাসোর সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণ করবে।

তবে ড্রপ সাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাঁচজন পৃথক পুন্টল্যান্ড নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগে সেখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি ছিল না। কেবল গোয়েন্দা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি অফিস ছিল। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত চুক্তিটি ২৭ জুলাই ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকম ও প্রেসিডেন্ট দেনির গোপন বৈঠকেই চূড়ান্ত হয় এবং পরে বসাসোয় শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিআইএর বাড়তি ভূমিকা

স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, বসাসোয় অবস্থানরত সিআইএ সদস্যরা আইএসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। গত বছরের জুলাইয়ে আইএস-সোমালিয়ার অর্থ শাখার প্রধান আবদিউয়েলি মোহামেদ ইউসুফকে যৌথ মার্কিন-সোমালি অভিযানে আটক করার পর তাঁকেও বসাসোর সিআইএ পরিচালিত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।

নতুন সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী গঠন

নতুন ঘাঁটির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী স্ট্রাইক ফোর্সও গঠন করবে। এই বাহিনীর সদস্যদের বেতন, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসজ্জার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র নেবে বলে জানিয়েছেন পুন্টল্যান্ডের কর্মকর্তারা। তবে বাহিনীতে কতজন সদস্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি।

ট্রাম্প আমলে বেড়েছে হামলা

ড্রপ সাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সোমালিয়ায় মার্কিন বিমান হামলার সংখ্যা আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর দেশটিতে ২০৫টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যার ৫৩ শতাংশই আইএসকে লক্ষ্য করে।

সাংবিধানিক প্রশ্ন

নতুন ঘাঁটি নির্মাণ নিয়ে আইনি বিতর্কও দেখা দিয়েছে। সোমালিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা বা সামরিক চুক্তি করার ক্ষমতা কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের। অথচ বসাসো ঘাঁটির বিষয়ে সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি এবং তারা আগে থেকেই বিষয়টি জানত কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: ড্রপ সাইট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত