Ajker Patrika

বিপন্ন লজ্জাবতী বানর উদ্ধার, অবমুক্ত হবে গাজীপুর সাফারি পার্কে

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
বিপন্ন লজ্জাবতী বানর উদ্ধার, অবমুক্ত হবে গাজীপুর সাফারি পার্কে
লোকালয়ে চলে আসায় স্থানীয়রা বানরটিকে ধরে খাঁচায় আটকে রাখে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভারতীয় সীমান্তবর্তী বৈদ্দেরখিল এলাকায় একটি বিপন্ন প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বানরটিকে আটক করে খাঁচাবন্দী করা হয়। পরে আজ বুধবার সকালে সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্দেরখিল গ্রামের আবদুল মমিনের বাড়িতে লজ্জাবতী বানরটি আশ্রয় নেয়। বাড়ির লোকজন প্রাণীটিকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন এসে সেটিকে আটক করে খাঁচাবন্দী করেন। এ সময় বানরটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

আবদুল মমিন জানান, রাত সাড়ে ১০টার পর হঠাৎ প্রাণীটি তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা ভয় পেয়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় প্রাণীটিকে আটক করে খাঁচাবন্দী করা হয়। পরে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, এটি লজ্জাবতী বানর, যা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না; বরং পরিবেশের জন্য উপকারী।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আজ সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন সাগর জানান, এটি একটি বিপন্ন প্রাণী, যা লজ্জাবতী বানর নামে পরিচিত। শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাণীটিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, খাদ্যসংকটের কারণে প্রাণীটি ভারত থেকে লোকালয়ে চলে এসেছে।

আবদুল্লাহ আল মামুন আরও জানান, লজ্জাবতী বানর ক্ষুদ্রাকৃতির ও মন্থরগতির প্রাণী। ফুলের পরাগায়ন ও বীজ বিস্তারে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। এ কারণে প্রাণীটি পরিবেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এটি বিপন্ন প্রাণীর তালিকাভুক্ত।

লজ্জাবতী বানরের লোকালয়ে চলে আসার কারণ সম্পর্কে আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সেগুনের মতো বিদেশি বৃক্ষনির্ভর বাগান বৃদ্ধির ফলে লজ্জাবতী বানরের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎস কমে যাচ্ছে। চিরসবুজ বনাঞ্চলে তারা প্রয়োজনীয় খাবার ও উপযুক্ত পরিবেশ পায়, কিন্তু সেগুন বাগানে তাদের প্রধান খাদ্য গাছের আঠা না থাকায় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. শাহিন আলম জানান, বানরটির চিকিৎসা চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর এটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।

ইউএনও শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘বৈদ্দেরখিল গ্রামের স্থানীয়রা গতকাল রাতে বানরটিকে আটক করে। আজ সেটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আহত হওয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। বর্তমানে প্রাণীটি বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত