Ajker Patrika

মহেশপুর পৌরসভা: সড়ক-নালা সংস্কারকাজে ধীরগতি, বাড়ছে দুর্ভোগ

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ঝিনাইদহ 
মহেশপুর পৌরসভা: সড়ক-নালা সংস্কারকাজে
ধীরগতি, বাড়ছে দুর্ভোগ
আড়াআড়ি করে সড়ক খুঁড়ে চলছে নালা নির্মাণের কাজ। এতে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অপসারণ করা হয়নি খুঁড়ে রাখা কংক্রিট। সম্প্রতি ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভায় সাড়ে সাত কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সাড়ে ১০ কিলোমিটার নালা নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছে। পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে সড়ক খুঁড়ে ফেলায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল।

এতে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে পৌরবাসী।

জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহযোগিতায় নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক সংস্কার ও নালা নির্মাণের কাজ চলছে। দুটি প্যাকেজে ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৭ টাকার চুক্তিমূল্যে ১২ স্থানে সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৫ স্থানে সাড়ে ১০ কিলোমিটার নালা নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শহরের সড়ক খুঁড়ে ফেলা হয়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, কোনো পরিকল্পনা বা সমন্বয় ছাড়াই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় এক বছর ধরে সমস্ত শহর খুঁড়ে একযোগে কাজ করছে। ফলে ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভার সড়ক দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এসে চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এমনকি কাজের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। ১৫-২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

এদিকে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন উঠেছে কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও। গত ১৩ জুলাই নালা নির্মাণের কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শ্রমিক মারা যান। এরপরই শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। কার্যাদেশ অনুযায়ী, শ্রমিকদের গাম বুট, হ্যান্ড গ্লাভস, চশমা, হেলমেট ও ইউনিফর্ম থাকার কথা। কিন্তু এর কোনো কিছুই ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠান সরবরাহ করে বলে শ্রমিকেরা অভিযোগ তুলেছেন। যদিও শ্রমিকের মৃত্যুর পর অল্পসংখ্যক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মহেশখালী থানার সামনে মূল সড়ক আড়াআড়ি করে খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ফলে সড়কটি দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বিকল্প সড়ক ঘুরে চলাচল করছে এই পথ ব্যবহারকারীরা।

এ সময় নালা নির্মাণশ্রমিক আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দলের একজন শ্রমিক কাজ করার সময় গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন।’

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কে নালা নির্মাণকাজ করছে নারায়ণগঞ্জের ‘ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেড’ এবং ঢাকার ‘র‍্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেডের কাজের মেয়াদ গত ১৫ জুন শেষ হয়েছে। আবার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। র‍্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেডের কাজের মেয়াদ এখনো ৬ মাস বাকি আছে। তাদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি। এমন অবস্থায় কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১০-২০ ভাগের মতো। এসব তথ্য মহেশপুর পৌরসভার প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের কার্যাদেশ অনুযায়ী, ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেড শহরের তিনটি স্থানে আরসিসি এবং ডিবিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে ২ হাজার ৭৯০ মিটার সড়ক, যার মধ্যে রয়েছে ১৬৯ মিটার পার্শ্ব সড়ক সুরক্ষা কাজ এবং পাঁচটি স্থানে ৪ হাজার ৮৬৮ মিটার আরসিসি নালা নির্মাণকাজ করছে। অন্যদিকে র‍্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেড শহরের ৯টি স্থানে আরসিসি এবং ডিবিসির মাধ্যমে ৪ হাজার ৬৯১ মিটার সড়ক, যার ৮৬ মিটার পার্শ্ব সড়ক সুরক্ষাকাজ ও ১০টি স্থানে ৫ হাজার ৭২৪ মিটার আরসিসি নালা নির্মাণের কাজ করছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শহরের ১৬০টি সড়কবাতি স্থাপনের কাজ করছে।

ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেডের মহেশপুর অংশের কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বড় কাজ করতে গেলে বহু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে কাজ করতে হয়। যে কারণে মেয়াদ শেষ হয়েছে, এখন আরও ৬ মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বাধা দিচ্ছেন। তাঁদের সমস্যাগুলো আমাদের মাথায় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ইচ্ছা করলেই খুব দ্রুত আমরা কাজ শেষ করতে পারছি না। তবে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

র‍্যাব আরসি প্রাইভেট লিমিটেডের কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য ৫-৭ লাখ টাকার বিমা করা আছে। তা ছাড়া আমাদের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’

মহেশপুর পৌরসভার প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা কাজ দ্রুত করার জন্য দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দিচ্ছি। তারাও কাজ করার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত