
দক্ষিণ চট্টগ্রামে আকস্মিক বন্যার পর পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করেছে। এবারের বন্যায় জেলার অন্তত ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বন্যার দূষিত পানিতে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে অনেকের শরীরে ছত্রাক সংক্রমণ, শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।
৫ জুলাই থেকে টানা বর্ষণ, জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) চট্টগ্রাম থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত তিন উপজেলায় ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১১০টি নলকূপ সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৮৫১টি নলকূপ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নলকূপের মধ্যে সরকারি ও ব্যক্তিগত উভয় ধরনের নলকূপ রয়েছে। ফলে এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নলকূপের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট। এ তিন উপজেলায় বন্যায় প্রায় ৮ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত মানুষের মধ্যে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।’
বন্যা পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পর দুর্গত এলাকায় শিশুরা বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বন্যার দূষিত পানিতে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে অনেকের শরীরে ফোসকা, খোসপাঁচড়া, ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি, শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখের নানা রোগ, ডায়রিয়া, কলেরা ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে জেলার ইউনিয়নভিত্তিক ২০০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। ইতিমধ্যে ১১২টি মেডিকেল ক্যাম্প এবং ৩২টি মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে ৪৫ হাজার ২০০ রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘মেডিকেল অফিসার, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমগুলো বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মেডিকেল ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৫০০টি ওরস্যালাইন এবং ৬৫ হাজার ৯০০টি পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
১০ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলার ১৫টি উপজেলায় স্বাস্থ্য পরিস্থিতির পরিসংখ্যান বলছে, এ সময়ের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৪ জন। তবে এই রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে ১৫টি উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ জন। তবে হাম ও ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে চর্মরোগে আক্রান্ত রোগী এসেছে প্রায় ৭০০ জন। বেশির ভাগ রোগী জলাবদ্ধতার কারণে স্ক্যাবিস, ডিপ ফাঙ্গাল ইনফেকশন, নখের সংক্রমণ, সেলুলাইটিস ও অ্যালার্জিজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক রফিকুল মওলা বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের মধ্যে “হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ” নামের এক ধরনের রোগ দেখা যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই রোগে আক্রান্ত হয়। রোগটির সঙ্গে বন্যার সম্পর্ক আছে। একসঙ্গে অনেক মানুষ থাকা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়া, দীর্ঘ সময় পানির সঙ্গে থাকা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ নানা কারণে এই রোগ হতে পারে। মুখ ও হাতে বেশি হয়। হাতে ছোট জলবসন্তের মতো ফোসকা ও জ্বর হয়।’ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত বেশ কয়েকটি জায়গায় এই রোগ দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এক বছর ধরে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহযোগিতায় নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এই সড়ক সংস্কার ও নালা নির্মাণের কাজ চলছে। দুটি প্যাকেজে ৩৬ কোটি ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৭ টাকার চুক্তিমূল্যে ১২ স্থানে সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৫ স্থানে সাড়ে ১০ কিলোমিটার নালা নির্মাণের কাজ চলছে।
১ ঘণ্টা আগে
সন্ধ্যা গড়াতেই শ্রাবণের বৃষ্টি আরও ঘন হয়ে নামে। শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের কার্নিশ ছুঁয়ে মাধবীলতার পাতায় জমতে থাকে বৃষ্টির ফোঁটা। এমন বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় মিলনায়তনে ভেসে আসে সুরের মূর্ছনা—‘আকাশে আজ ছড়িয়ে দিলাম প্রিয়, আমার কথার ফুল গো–কুড়িয়ে তুমি নিও’।
১ ঘণ্টা আগেনাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় ছাড় (রিবেট) সুবিধা দিয়েও হোল্ডিং ট্যাক্সের (পৌর কর) প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে না। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মাসের বকেয়া বেতন । অপর দিকে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম। পৌরসভার কর বিভাগের দাবি, নাগরিক পর্যায়ে কর আদায় হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান...
১ ঘণ্টা আগে
আষাঢ় বিদায় নিয়ে শ্রাবণ এসেছে। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিও হচ্ছে। চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ এ সময়েও জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দুই-একটি যা ধরা পড়ছে, তারও দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। গত দুই দিন মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল...
২ ঘণ্টা আগে