Ajker Patrika

গুরুদাসপুর পৌরসভা: বকেয়া কর ২ কোটি, বিপাকে কর্মচারীরা

  • ২৫ মাসের বকেয়া বেতন এখনো পাননি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
  • পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা।
আনিসুর রহমান, গুরুদাসপুর, নাটোর
গুরুদাসপুর পৌরসভা: বকেয়া কর ২ কোটি, বিপাকে কর্মচারীরা

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় ছাড় (রিবেট) সুবিধা দিয়েও হোল্ডিং ট্যাক্সের (পৌর কর) প্রায় ২ কোটি টাকা আদায় হচ্ছে না। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৫ মাসের বকেয়া বেতন । অপর দিকে ব্যাহত হচ্ছে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম।

পৌরসভার কর বিভাগের দাবি, নাগরিক পর্যায়ে কর আদায় হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) ও সরকারি দপ্তরের হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়া পড়েছে।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৯২৭ টাকা। আগের অর্থবছরে এ বকেয়ার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০৪ টাকা।

গেল ২৯ জুন পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রকাশিত হালনাগাদ কর আদায়ের তথ্যে বকেয়ার চিত্র উঠে আসে।

পৌরসভার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের বিবরণ অনুযায়ী, ৮ হাজার ৯৯৯টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে আগের বছরের বকেয়া দাবি ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০৪ টাকা। চলতি অর্থবছরের নতুন দাবি ছিল ২ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৯৯৩ টাকা। ফলে মোট দাবি দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৪৯৭ টাকা।

এর মধ্যে আগের বকেয়া থেকে আদায় হয়েছে ৬০ লাখ ১২ হাজার ৩৪৫ টাকা এবং চলতি বছরের দাবি থেকে আদায় হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ২২৫ টাকা। সব মিলিয়ে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা, যা মোট দাবির ৪৮ শতাংশ। বাকি ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৯২৭ টাকা, অর্থাৎ মোট দাবির ৫২ শতাংশ, এখনো অনাদায়ি রয়েছে।

পৌরসভার কর আদায়কারী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, নাগরিক পর্যায়ে কর আদায়ের হার সন্তোষজনক হলেও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (স্কুল-কলেজ) ও দুই-একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বকেয়া রাখছে। বকেয়া রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৫০ লাখ, বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রায় ৩৫ লাখ, রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজ ১৮ লাখ ৬৮ হাজার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ১ লাখ টাকা এবং ফায়ার সার্ভিস ৮০ হাজার টাকা বকেয়া রেখেছে।

জানতে চাইলে নাজিমউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আফসার আলী ও রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দিন বলেন, কর পরিশোধ করার মতো কোনো তহবিল (ফান্ড) নেই। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, করের টাকা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে পরিশোধ করা হবে।

এ বিষয়ে পৌরসভা কর্মকর্তা-কমচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক (সহকারী কর আদায়কারী) দিল মোহাম্মদ বলেন, বিগত দুই মেয়রের সময় থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২ বছর ১ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন বকেয়া থাকার কারণে রাজস্ব খাতের ৬৫ জন এবং মাস্টার রোলে ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বকেয়াসহ ধার্য কর আদায়ের লক্ষ্যে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে রিবেট (ছাড়)। দ্রুতই কর আদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত