Ajker Patrika

মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
মা-ভাতিজিকে হত্যার দায় স্বীকার, আদালতে ইমনের জবানবন্দি
অভিযুক্ত ইমন মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মা ও আট মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার ঘটনায় ইমন মিয়া (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, জবানবন্দিতে ইমন ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাতেই পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় ইমন কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়া মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম (৬৫) এবং তাঁর বড় ভাই সুজন মিয়ার আট মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় ইমনের ভাবী ও সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পায়ের ব্যথায় ভুগছিলেন ইমন। সোমবার সকালে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে তাঁর মা পিয়ারা বেগম বাধা দেন। এ সময় ইমন মায়ের কাছ থেকে দা নিয়ে তাঁকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন। পরে বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাঁর আট মাস বয়সী মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে ইমন তাঁকেও কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করে আহত করেন। একপর্যায়ে শিশুটি কোলে থেকে পড়ে গেলে ইমন তাকে তুলে নিয়ে আছাড় দিয়ে হত্যা করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা আহাজারি করছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা আহাজারি করছেন। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয়রা জানান, ২০১৮ সালে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে ব্যথা শুরু হয়। দুই-তিন বছর আগে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও ব্যথা পুরোপুরি কমেনি। সম্প্রতি এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর পায়ে আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও পায়ের ব্যথা অব্যাহত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত রাবেয়া বেগমকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান এবং ইমনকে একটি ঘরে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে দেবিদ্বার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন মিয়া ও দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমনকে আটক করে।

এ ঘটনায় ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়া বাদী হয়ে ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইমন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত