Ajker Patrika

কামড়ে ৯ জনকে আহত করা সেই শিয়ালের মাথা সংগ্রহ, নমুনা পাঠানো হয়েছে গবেষণাগারে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
কামড়ে ৯ জনকে আহত করা সেই শিয়ালের মাথা সংগ্রহ, নমুনা পাঠানো হয়েছে গবেষণাগারে
ফাইল ছবি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা সেই শিয়ালের মাথা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে পরীক্ষার জন্য নমুনা কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এর আগে বিকেলে শিয়ালটির কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার রাত ১০টার দিকে শিয়ালটির মাথা কেটে আনেন উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোজাম্মেল হক।’

ডা. কে এম ইফতেরুল ইসলাম বলেন, ‘শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

আহতদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিয়ালটির কামড়ে আহত ৯ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের কোনো সমস্যা নেই, ইনশা আল্লাহ।’

বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ‘গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায় হঠাৎ একটি শিয়াল ঢুকে পড়ে। এ সময় শিয়ালটি পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। এতে শিশু, নারী ও পুরুষসহ মোট ৯ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরে মেরে ফেলেন। এরপর সেটি একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে আসেন। রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিয়ালটির মাথা কেটে নিয়ে যান। বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।’

আহতরা হলেন—তালুক বেলকা গ্রামের মো. জমশের আলীর স্ত্রী মোছা. নিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৭০), মো. আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরুজা বেগম (৩৭) এবং মো. শফিউল ইসলামের ছেলে মো. শাওন মিয়া (৬)।

এ ছাড়া জিগাবাড়ী এলাকার মো. মুকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৩), মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (২৬), মো. আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে মোছা. আয়শা আক্তার (৩) এবং মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হাসান মিয়া (৭) আহত হন।

নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গত রোববার রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেরে ফেলা শিয়ালটি খুঁজে বের করি। এটি একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে আমি শিয়ালটির মাথা কেটে নিই এবং বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখি। এ সময় আমার সঙ্গে বেলকা ইউনিয়নের ভ্যাকসিনেটর, এআই (কৃত্রিম প্রজনন) টেকনিশিয়ান ও স্থানীয় লোকজন ছিলেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত