Ajker Patrika

আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় ইমন তাঁর মাকে কুপিয়ে ও ভাতিজিকে আছড়ে হত‍্যা করেন

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২৪
আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ায় ইমন তাঁর মাকে কুপিয়ে ও ভাতিজিকে আছড়ে হত‍্যা করেন
মা ও ভাতিজিকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার ইমন মিয়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত লাগে। কয়েকবার অস্ত্রোপচারেও ভালো হয়নি পা। উল্টো অসহ্য যন্ত্রণায় তাঁর দিন-রাত একাকার হয়ে যাচ্ছিল। যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ইমন মিয়া (২৮) মায়ের হাতে দা ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, তাঁকে মেরে ফেলতে। কিন্তু তা না করায় রাগ আর ক্ষোভে তিনিই দা দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যা করেন। ঠেকাতে গেলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন ভাবির মাথায়। আছড়ে মেরে ফেলেন ভাবির কোলে থাকা আট মাস বয়সী শিশুকন্যাটিকে।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১ নম্বর বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যে ইমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। ইমন বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটকের পর দুপুর ১২টায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।

নিহত দুজন হলেন ইমনের মা পিয়ারা বেগম (৬৫) ও তাঁর বড় ভাই সুজন মিয়ার আট মাস বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান। গুরুতর আহত বড় ভাইয়ের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (২৮) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। ইমন পুলিশকে বলেছেন, তিনি মাকে বলেছিলেন তাঁকে মেরে ফেলতে। মা রাজি না হওয়ায় তিনি মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ভাবি বাধা দিতে এলে তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ভাবির কোলে থাকা শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করেন বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।

ইমনের বড় মামা ও নিহত পিয়ারা বেগমের বড় ভাই পার্শ্ববর্তী মহেশপুর গ্রামের মো. ফারুক মেম্বার জানান, ২০১৮ সালে ফুটবল খেলতে গিয়ে ইমনের পায়ে আঘাত লাগে। এর পর থেকে তিনি পায়ের ব্যথার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। দুই বছর ধরে ব্যথা তীব্র হওয়ায় তাঁর পায়ে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি। পায়ের যন্ত্রণা আর হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

ফারুক মেম্বার আরও জানান, ইমন কোনো মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ভুল চিকিৎসা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তাঁর মানসিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ইমনের চাচা সম্পর্কের স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রথমবার অস্ত্রোপচারের পরও ইমনের পায়ের ব্যথা কমেনি। এক সপ্তাহ আগে এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাঁর পায়ে আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। গতকাল রোববার বিকেলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন। আজ সকালে আত্মহত্যার চেষ্টার সময় ইমনের মা তাঁকে বাধা দেন। ইমন মায়ের হাতে দা তুলে দিয়ে তাঁকে হত্যা করতে বলেন। মা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইমন দা কেড়ে নিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাঁর আট মাসের মেয়েকে কোলে নিয়ে দৌড়ে এলে ইমন তাঁকে কাঠের লাঠি দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত করেন। শিশুটির মাথায় আঘাত লাগায় সে কোল থেকে ছিটকে পড়ে। পরে শিশুটিকে তুলে এনে আছড়ে হত্যা করেন ইমন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত