Ajker Patrika

আলোচিত ফরিদা হত্যাকাণ্ড: হাত-পা উদ্ধার না হলেও স্বর্ণালংকার ও হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ০২
আলোচিত ফরিদা হত্যাকাণ্ড: হাত-পা উদ্ধার না হলেও   স্বর্ণালংকার ও হত্যায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার
হত্যাকাণ্ডে ব্যাবহৃত উদ্ধার হওয়া দা ও নিহতের স্বর্ণালঙ্কার (ইনসেটে) রিমান্ডে থাকা লাইলী আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তৃতীয় দিনে হত্যায় ব্যবহৃত দা ও নিহতের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি নিহতের মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ছোট আলমপুর এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় লাইলী আক্তার ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার রান্না ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ঘরের তাকের ওপর একটি ডিব্বার ভেতর থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের ব্যবহৃত একজোড়া কানের দুল, গলার চেইন, একটি আংটি ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া বাসার গুরুত্বপূর্ণ ড্রয়ারের চাবি বাথরুমের কমোডের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তল্লাশির একপর্যায়ে পাকের ঘরের একটি ড্রামের পাশে রাখা দেহ খণ্ডবিখণ্ড করার কাজে ব্যবহৃত একটি দাও উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সন্ধ্যায় নিহতের রান্নার ঘর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা, নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন একটি বাসায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ ফরিদা বেগম (৫৫) উপজেলার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার (৭২) স্ত্রী।

পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ ১৪টি পলিব্যাগে প্যাকেট করে রাখা হয়েছিল। পরে মরদেহের মাথার অংশ উদ্ধার করা হলেও এখনো হাত ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (৭২) বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আটক লাইলী আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাইলীসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আটক লাইলী আক্তারকে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত