Ajker Patrika

মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   
আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২২: ২০
মাতামুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী
ছবি: আজকের পত্রিকা

টানা চার দিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় অন্তত ১২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় চিরিংগা সেতু পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চিরিংগা পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৫৯ মিটার। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, মাতামুহুরীর উজানে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়ার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, হারাবং, খুটাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম ভেওলা ও বদরখালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বরইতলী ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, গোবিন্দপুর, শান্তিবাজার, বিবিরখিল, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের মানিকপুর, দক্ষিণ সুরাজপুর, কৈয়ারবিলের খোঁজাখালী ও ছোঁয়ালিয়াপাড়াসহ অর্ধশতাধিক গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়েছেন। এসব ইউনিয়নে নিরাপদ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। গত ১৫ বছরে এরকম টানা ভারী বৃষ্টি হয়নি। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’

চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দা হামিদুল হক বলেন, ‘পৌরশহরে বৃষ্টি ও ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে পানি দ্রুত নদীতে যেতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেছেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীতে পানি বাড়ছে। কিছু নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত