Ajker Patrika

চুয়াডাঙ্গা: ঠান্ডা-গরমে রোগীর চাপ বেড়েছে হাসপাতালে

  • সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে সাত দিনে চিকিৎসা নিতে আসে প্রায় ৫ হাজার রোগী।
  • ১৩টি শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ঠান্ডার রোগে আক্রান্ত ১৫৫ শিশু ভর্তি হয়েছে।
  • এক সপ্তাহে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২১০ জন।
মেহেরোব্বিন সানভী, চুয়াডাঙ্গা
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮: ৫২
চুয়াডাঙ্গা: ঠান্ডা-গরমে রোগীর চাপ বেড়েছে হাসপাতালে
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চলছে চিকিৎসাসেবা। ছবিটি গতকালের। আজকের পত্রিকা

ঋতু পরিবর্তনের কারণে দিনে তপ্ত রোদ, গরম। আবার রাতে মৃদু শীত। গরম-ঠান্ডার এমন আবহাওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগী বেড়ে গেছে। ঘরে ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়া এসব রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় তাঁরা চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে ঠান্ডার রোগে আক্রান্ত নানা বয়সী অন্তত ৫ হাজার রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, গতকাল রোববার পর্যন্ত সাত দিনে বহির্বিভাগে মোট রোগী এসেছে ৪ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে নারী ১ হাজার ৯০৬, পুরুষ ১ হাজার ৫১৮ এবং শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৫২৮ জন। এ সময় ১৩টি শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৫৫ শিশু। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ বেড়েছে শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডে। শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ১৩ শয্যার বিপরীতে ২ মার্চ থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ১৭৫ জন নতুন রোগী। এর মধ্যে ২ মার্চ ৩০, ৩ মার্চ ১৫, ৪ মার্চ ৩৬, ৫ মার্চ ১৮, ৬ মার্চ ২২, ৭ মার্চ ১৫ এবং গতকাল বেলা ১টা পর্যন্ত ১৯টি শিশু ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশু ওয়ার্ডের প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীই নিউমোনিয়া ও ঠান্ডার রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২১০ জন। নারী মেডিসিন ওয়ার্ডে মাত্র ১১ শয্যার বিপরীতে এক সপ্তাহে ২৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়; যার মধ্যে ৪ মার্চ সর্বোচ্চ ৫৪ জন রোগী ভর্তি হয়। অন্যদিকে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ২২ শয্যার বিপরীতে গত এক সপ্তাহে ১৭৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা আতিকুর রহমান জানান, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেই তাঁর শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তিন দিন ধরে হাসপাতালে থাকার পর শিশুর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ জন শিশু রোগী দেখছি। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শিশুদের শরীর ঘেমে তা বসে গিয়ে ঠান্ডার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের এ সময়ে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বর্তমানে হাসপাতালে জ্বর, সর্দি ও কাশির রোগীর চাপ বেশি থাকলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি নেই। আমরা সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করছি। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, চুয়াডাঙ্গায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নৌ-পুলিশপ্রধানসহ পুলিশের ৫ অতিরিক্ত আইজিপিকে বাধ্যতামূলক অবসর

ইরানি তেলের ডিপোতে হামলার পর ইসরায়েলকে ‘হোয়াট দ্য ফা**’ বার্তা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র

জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান: ড্রোন-হেলিকপ্টার থেকে নজরদারি, আটক ও অস্ত্র উদ্ধার

ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে বরণ করলেন বিএনপির এমপি

নেসকোর প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় চান প্রতিমন্ত্রী, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত