Ajker Patrika

ফটিকছড়িতে রাস্তায় পড়ে আছে চামড়া, রাতভর অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি ক্রেতার

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে রাস্তায় পড়ে আছে চামড়া, রাতভর অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি ক্রেতার
রাস্তায় পড়ে আছে কোরবানির পশুর চামড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এবার ঈদের চামড়ার বাজারে দেখা গেছে ভয়াবহ স্থবিরতা। ট্যানারি মালিক ও বড় পাইকারেরা না আসায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে সড়কে ফেলে চলে গেছেন মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা। রাতভর অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা না মেলায় ব্যবসায়ীরা হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও দোকানের সামনে সারি সারি গরুর চামড়া পড়ে আছে। কোথাও সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে চামড়া, আবার কোথাও দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। রাতে ট্যানারি প্রতিনিধি কিংবা বড় পাইকারেরা না আসায় প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদের দিন দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিবিরহাট বাজারে নিয়ে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁরা আশায় ছিলেন, রাতে ট্যানারি প্রতিনিধি কিংবা বড় পাইকারেরা এসে চামড়া কিনবেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো বড় ক্রেতার দেখা মেলেনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাজারে কথা হয় কয়েকজন প্রান্তিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিটি গরুর চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে সংগ্রহ করেছেন। পরিবহন, লবণ ও শ্রমিক খরচ যোগ করে একটি চামড়ার পেছনে খরচ আরও বেড়েছে। কিন্তু বাজারে এসে সেই চামড়া বিক্রি করার মতো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. বেলাল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছি। ভাবছিলাম ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বড় কোনো ব্যবসায়ী নেই। এখন কম দামে বিক্রি করলে পুরো টাকাই ডুবে যাবে।’

আরেক ব্যবসায়ী মো. আজম বলেন, ‘সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ঠিক করে দিলেও মাঠপর্যায়ে কেউ সেই দাম মানছে না। আমরা স্থানীয়ভাবে বেশি দামে কিনেছি, এখন বিক্রি করতে না পেরে বিপদে আছি।’

আবুল কালাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, চামড়া বেশিদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে সব নষ্ট হয়ে যাবে। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে ফেলে রেখে চলে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অবিক্রীত যেসব চামড়া সড়কে ফেলে গেছে। সেগুলো দ্রুত অপসারণ করে পরিবেশসম্মত উপায়ে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত