Ajker Patrika

শিকলবাহা খাল থেকে উদ্ধার বস্তাবন্দী লাশের পরিচয় শনাক্ত, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৪৪
শিকলবাহা খাল থেকে উদ্ধার বস্তাবন্দী লাশের পরিচয় শনাক্ত, গ্রেপ্তার ২

আড়াই মাস আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা নারীর পরিচয় শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। পিবিআইয়ের ভাষ্য, মরদেহটি জান্নাতুল ফেরদৌসের। তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়।

পিবিআই বলছে, প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে ও পরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজু সহযোগীদের নিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে হত্যা করেন।

আজ বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজা মিয়ার দুই সহযোগী মো. মুসলিম উদ্দিন (৩৯) ও শুকুর আহমদ (২৪) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মুসলিম উদ্দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঠের তৈরি একটি ইঞ্জিনচালিত সাম্পান নৌকাও জব্দ করেছে পিবিআই।

পিবিআই কর্মকর্তা এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস বাঁশখালী উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়নের মনকিচর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নগরের ম্যাপ সুজ লিমিটেড নামের একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে চান্দগাঁও এলাকায় বসবাসের সময় রাজা মিয়া তাঁর প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে জান্নাতুলকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর রাজুর প্রথম স্ত্রীর বিষয়ে জানতে পারেন জান্নাতুল। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া ও মনোমালিন্য হতো। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন রাজু। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজু। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নৌকা নিয়ে মুসলিম উদ্দিন, শুকুর আহমদ ও আরমান নামের আরেক সহযোগী প্রস্তুত ছিলেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, নৌকায় করে জান্নাতুলকে নিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে রওনা হন তাঁরা। রাত ৮টার দিকে নৌকায় বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে রাজু জান্নাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। পরে রাজু তাঁর মুখ চেপে ধরেন এবং রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

পিবিআই জানায়, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জান্নাতুলের হাত-পা বেঁধে লাশ বস্তাবন্দী করা হয়। পরে কালারপোলের এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের দিকে শিকলবাহা খালে লাশ ফেলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

গত ২ আগস্ট দুপুরে শিকলবাহা খালের বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকা থেকে বস্তাবন্দী অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ থানার পুলিশ। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহত জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, গতকাল বুধবার মুসলিম উদ্দিন চট্টগ্রামের বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত স্বীকার করেছেন। প্রধান অভিযুক্ত রাজা মিয়া ওরফে রাজু ও আরেক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত