
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে একটি জাতীয় কমিশন গঠনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেছেন, কমিশনে পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিসত্তা, বাঙালি জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, গবেষক, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে টেকসই সমাধানের রূপরেখা তৈরি করতে হবে।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের আয়োজনে ‘সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন অগ্রগতির মূল্যায়ন’—শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সাইফুল হক।
পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের এত বছর পরও পাহাড়ে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে অভিযোগ করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘ভূমির অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।’
পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যার কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন সাইফুল হক। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই থেকে তিন দশকের মধ্যে আদিবাসী জাতিসত্তাগুলো নিজ ভূখণ্ডেই আরও গভীর সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সাইফুল হক বলেন, ‘পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীকেও সমাধান প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা যাবে না। তাদের সম্পৃক্ত না করে কোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়।’
দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, ‘মব সহিংসতা, মাজারে হামলা এবং পার্বত্য অঞ্চলে জাতিগত জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতার ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; এগুলো একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।’
সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কোনো একক রাজনৈতিক দলের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি জাতীয় দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সেনাবাহিনী, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণ এবং নাগরিক সমাজ—সব পক্ষকে আস্থা তৈরির ভিত্তিতে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে হবে।’
বাংলাদেশের ইতিহাসে চুক্তি বাস্তবায়নের রেকর্ড খুব আশাব্যঞ্জক নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামাজিক চুক্তি সংবিধানের অনেক অঙ্গীকারই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই পার্বত্য শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।’
বর্তমান সরকারের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে বহুত্ববাদী সমাজ গঠন, পরিচয়ের বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তার ভাষায়, ‘এখন প্রয়োজন এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা।’
পার্বত্য শান্তি চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের অর্থ চুক্তি বাতিল নয়; বরং কোথায় অগ্রগতি হয়েছে, কোথায় হয়নি এবং কীভাবে কার্যকর বাস্তবায়ন সম্ভব, তা বাস্তবতার আলোকে পর্যালোচনা করা—বলেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অধিকার কেবল পাহাড়ের মানুষের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন।’ ১৯৯৭ সালের শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রোডম্যাপ ঘোষণা করে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন প্রমুখ।
নিরপেক্ষতা যাচাই: সরকারের বা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় পক্ষের বক্তব্য সংবাদে অনুপস্থিত।

ভবন নির্মাণে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তি হিসেবে পেতে হয় নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে অবনতি। অনিয়মের কারণে চার বছর পদোন্নতি স্থগিত থাকে। কর্মস্থলে সময়মতো না আসা, সহকর্মীদের সঙ্গে বাজে আচরণের জন্য দেওয়া হয় কারণ দর্শানোর নোটিশ। তদবির বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা...
১ ঘণ্টা আগে
একই গাছের ডালে পাশাপাশি অসংখ্য বাসা। কোনো বাসায় বক, কোনো বাসায় সারস, কোনোটায় পানকৌড়ি। সঙ্গে রয়েছে বাদুড়সহ নানা প্রজাতির পাখি। প্রতিটি গাছে ভিন্ন প্রজাতির পাখির বসবাস হলেও নেই কোনো দ্বন্দ্ব, খাবার নিয়ে বিরোধ কিংবা বাসা দখলের লড়াই। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এমন বিরল দৃশ্য দেখা মিলছে বাগেরহাটের...
২ ঘণ্টা আগে
প্রকৃত মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ। সীমান্তসংলগ্ন জেলাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে গত ১৪ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭৫ মামলায় ২৩৫ আসামির ডোপ টেস্ট করানো হয়। নমুনা পরীক্ষায় তাঁদের মধ্যে ২২২ জনের...
২ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় গত মার্চের মাঝামাঝি হামের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৮০ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৮৪ জন হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হয়েছে। ২৯৬ জন এখন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে