সন্দ্বীপে অন্যের ভিটার ওপর দিয়ে যুবদল নেতার সড়ক নির্মাণের চেষ্টা

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে পৈতৃক বসতভিটার মাঝখান দিয়ে জোর করে সড়ক নির্মাণচেষ্টা, হামলা, হুমকি, মাছ ছিনতাই ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা জাকারিয়া তসলিমের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ তুলে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তালুকদার পরিবার।
আজ বুধবার চট্টগ্রামের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন মাস্টার জাফরুল হক তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে জাফরুল হক তালুকদার জানান, মুছাপুর ইউনিয়নে তাঁদের পরিবার বংশপরম্পরায় পৈতৃক সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে। গত দুই বছর ধরে প্রতিবেশী জাকারিয়া তসলিম যুবদল নেতা পরিচয় দিয়ে তাঁদের বসতভিটার মাঝখান দিয়ে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। জাকারিয়া তসলিম মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।
বাধা দেওয়ায় পরিবারের সদস্য গিয়াস উদ্দিন তালুকদারকে হয়রানি, তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তালুকদার বাড়িতে হামলা করা হয়। পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করা হয়।
জাফরুল হক তালুকদার আরও জানান, তাঁদের জমির ওপর দিয়ে আগে কোনো জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ছিল না। বাড়ির পশ্চিম পাশে সোলায়মান সড়ক ও উত্তর পাশে চলাচলের রাস্তা রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতাদের ও থানা প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাবাজার ও গাছতলীর হাট-ঘাট এলাকায় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকার মাছ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর ঠাকুর ও যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খানের মধ্যস্থতায় জরিমানা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
২১ অক্টোবর মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানী মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জাকারিয়া তসলিম ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত সাহাব উদ্দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল মূলক শিপন, আলমগীর তালুকদার, মুহাম্মদ শোয়াইব উদ্দিন হায়দার, মো. সাইমুন, অ্যাডভোকেট আরাফাত হাসান, ইমতিয়াজ উদ্দিন, রাশেদুল মূলক, আলমগীর হক তালুকদার ও অ্যাডভোকেট হেলাল মুজিব।
এ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তসলিম বলেন, জায়গাটি সরকারি। এটি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের জায়গা নয়।









