Ajker Patrika

সন্দেহজনক পার্সেল ভুয়া পরিচয়ে আত্মসাতের চেষ্টা, গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৩৯
সন্দেহজনক পার্সেল ভুয়া পরিচয়ে আত্মসাতের চেষ্টা, গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল
কনস্টেবল কৃষাণ বড়ুয়া। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়ীদের বুকিং দেওয়া সন্দেহজনক পণ্যভর্তি কয়েকটি পার্সেল জোর করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে কৃষাণ বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের প্রধান শাখা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও এক ব্যক্তি পালিয়েছেন।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কৃষাণ বড়ুয়াকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, কৃষাণ বড়ুয়া কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি শাখায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায়। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নোটন বড়ুয়া নামের আরও একজন কৌশলে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে পার্সেলগুলো আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনায় এস এ পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় কৃষাণ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কাজীর দেউড়ি প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য পার্সেলগুলো বুকিং দিয়েছিলেন।

মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, গতকাল রাতে মোটরসাইকেলে দুজন ব্যক্তি কুরিয়ারের কাউন্টারে আসেন। তাঁদের একজন পুলিশ ও অন্যজন র‍্যাবের সদস্য পরিচয় দিয়ে পার্সেলগুলোর ভেতরে অবৈধ মালামাল আছে বলে দাবি করেন। পরে তাঁরা পার্সেলগুলো জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘তাঁদের আচরণ দেখে আমাদের সন্দেহ হওয়ায় পার্সেলগুলো নিতে বাধা দিই। এ সময় তাঁরা আমাদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছিলেন।’

কুরিয়ার ব্যবস্থাপক জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর একই কায়দায় একটি প্রতারক চক্র তাঁদের এক গ্রাহকের বুকিং দেওয়া তিনটি কার্টন জোর করে নিয়ে গিয়েছিল। মোটরসাইকেলে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিরা অস্ত্রও প্রদর্শন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, আগের ঘটনার পর থেকে সতর্ক থাকায় গতকাল রাতে আসা দুজনের সন্দেহজনক আচরণ দেখে কৌশলে একজনকে তাঁর কক্ষের ভেতরে আটকে রাখা হয়। পরে কোতোয়ালি থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।

কোতোয়ালি থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষাণ বড়ুয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানান মোরশেদ আলম চৌধুরী। তাঁর ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে কৃষাণ বড়ুয়া কুমিল্লা পুলিশে কর্মরত থাকার কথা জানান। কৃষাণ বড়ুয়ার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি নোটন বড়ুয়া এবং তিনি একজন সেনাসদস্য বলেও দাবি করেন মোরশেদ আলম চৌধুরী।

কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানে পার্সেল আত্মসাতের চেষ্টার খবর পেয়ে রেয়াজউদ্দিন বাজার থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী সেখানে ভিড় করেন বলে জানান মোরশেদ আলম চৌধুরী।

এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের কাজীর দেউড়ি শাখায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানের বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করেছিল পুলিশ ও র‍্যাব। সম্প্রতি কয়েক দফায় ওই প্রতিষ্ঠান থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা কোটি টাকার বিদেশি সিগারেটের বেশ কিছু পার্সেল জব্দ করা হয়।

এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার অনুযায়ী, চোরাচালানের মালামাল চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে বুকিং দেওয়া হয়েছিল। রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীদের একটি চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কুরিয়ারে চোরাচালানের মালামাল চট্টগ্রামের বাইরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ধারণা, অবৈধ কোনো মালামাল বুকিংয়ের তথ্য পেয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা গতকাল রাতে ভুয়া পরিচয়ে পার্সেলগুলো আত্মসাতের চেষ্টা করে থাকতে পারেন।

মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘পার্সেল তিনটিতে কী ধরনের পণ্য ছিল, তা আমরা জানি না। এসব শুধু জানেন যিনি বুকিং দিয়েছেন এবং যাঁর কাছে পণ্যগুলো পাঠানো হচ্ছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত