Ajker Patrika

চট্টগ্রামে যুবদল নেতার পক্ষ ত্যাগ করায় যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ০১
চট্টগ্রামে যুবদল নেতার পক্ষ ত্যাগ করায় যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টা
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের (ডানে) সঙ্গে গুলিতে আহত জীবন (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় এক যুবদল নেতার পক্ষ ত্যাগ করাসহ তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) নামে এক যুবককে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কুঞ্জছায়া আবাসিকের ২ নম্বর সড়কে হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জীবন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধ এবং রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জীবনের ওপর হামলা হয়েছে। তবে জুয়েল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

হামলার পর জীবনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আইসিইউতে নেওয়ার আগে জীবন ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ইকরাম বাবু ও আরমান তাঁকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার রাতে বায়েজিদ এলাকা থেকে জীবন নামে এক যুবককে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাঁকে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

তবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন গুলির ঘটনা অস্বীকার করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, জীবনকে কিল-ঘুষি ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, গুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, মেহেদী নামে এক যুবকের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার আগের দিন দুজনের মধ্যে ঝামেলাও হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জীবনসহ চার-পাঁচজন কুঞ্জছায়া আবাসিকের ২ নম্বর সড়কে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা ইকরাম বাবু, আরমান, মেহেদী, নাবিদসহ ১৩ থেকে ১৪ জন অতর্কিত জীবনের ওপর হামলা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে ছুরি ছিল এবং কয়েকজনের কাছে পিস্তল ছিল। ইকরাম বাবুসহ কয়েকজন হেলমেট পরা ছিলেন। তাঁরা প্রথমে জীবনকে কিল-ঘুষি মারেন, পরে ছুরিকাঘাত করেন। একপর্যায়ে ইকরাম বাবু পিস্তল বের করে জীবনের পা লক্ষ্য করে গুলি করেন। হামলার পর তাঁরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত দুজন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, গত দুই বছর ধরে জুয়েলের অনুসারী হিসেবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন জীবন। সম্প্রতি জুয়েলের পক্ষ ছেড়ে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের দলে যোগ দেন তিনি। এ নিয়ে জুয়েলের রোষানলে ছিলেন জীবন।

সূত্রগুলো আরও বলেছে, মেহেদী নামে জুয়েলের ভাগিনা ও তাঁর কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জীবনের বিরোধ চলছিল। হামলার আগের দিন জীবনের ছোট ভাইকে জোর করে এলাকা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

চমেক হাসপাতালে জীবনের মা মোছাম্মৎ শামসুন্নাহার অভিযোগ করেন, জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য তাঁর ছেলেকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। জীবন রাজনীতি বা চাঁদাবাজিতে জড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

শামসুন্নাহার বলেন, হামলার আগে তাঁর ছোট ছেলে ইমনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেন জুয়েলের লোকজন। পরে জুয়েল তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইমন বাসায় ফিরে আসবে, কিন্তু জীবন এলাকায় থাকতে পারবে না। কুঞ্জছায়া এলাকা ছেড়ে না গেলে জীবনকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

শামসুন্নাহার আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।

অভিযোগের বিষয়ে জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য নয়। কাউকে তাঁর সঙ্গে রাজনীতি করতে তিনি জোর করেননি।

জুয়েল বলেন, হামলাকারী ও আহত ব্যক্তি সবাই তাঁর ভাগিনা এবং পাশের এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনো শত্রুতা নেই। নিজেদের মধ্যে ঝামেলা থেকে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।

জীবনের মায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জুয়েল বলেন, কোনো পক্ষ হয়তো তাঁকে তাঁর বিরুদ্ধে এসব বলতে বাধ্য করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত