ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম

একসময় চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্য আমদানি ব্যবসার পরিচিত জুটি ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী ওরফে দীপু এবং মোহাম্মদ আব্দুল মালেক। শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে পাঁচ দশক ধরে তাঁরা পাশাপাশি বসে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একই অফিস, একই চেম্বার এমনকি একই দেয়ালঘেরা জমিতে পাশাপাশি বাড়িও গড়েছিলেন। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবকিছু ভাগাভাগি করতেন। কিন্তু শেষ বয়সে সেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছে। যৌথ ব্যবসা বন্ধ, অফিস বন্ধ আর এখন একে অপরের নামও মুখে নেন না।
ব্যবসায় সফলতা অর্জনের পর দুজনই চট্টগ্রামের ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স খাতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। একাধিক বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন তাঁরা। কিন্তু এখন তাঁদের নাম ঋণখেলাপির তালিকায়।
দুই বন্ধুর প্রতিষ্ঠান লাকী ট্রেডিং ও বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কাছে দুই ব্যাংকের মোট পাওনা প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার হিসাব অনুযায়ী, লাকী ট্রেডিংয়ের কাছে পাওনা ৯৮ কোটি ৬০ লাখ এবং বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কাছে ৭৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার তথ্যমতে, লাকী ট্রেডিং থেকে ব্যাংকের পাওনা ৯৪ কোটি ৩০ লাখ এবং বেঙ্গল ট্রেডিং থেকে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীপু-মালেক জুটির পতনের মূল কারণ আস্থার সংকট ও আর্থিক অসংগতি। দীর্ঘদিন নিজেদের হাতে ব্যবসা পরিচালনার পর দায়িত্ব দিয়েছেন কর্মকর্তাদের হাতে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার সময় অনিয়ম ও অননুমোদিত লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, যা পারস্পরিক সন্দেহের জন্ম দেয়।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে। ইউসুফ চৌধুরী সম্প্রতি দুদকে অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লাকী ট্রেডিংয়ের হিসাব থেকে বেঙ্গল ট্রেডিংয়ে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অননুমোদিতভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কর্ণধার আব্দুল মালেক, তাঁর ছেলে ইফতেখার মালেক, বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের একজন কর্মকর্তা এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন চৌধুরীকে।
বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সব লেনদেনই উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মতিতে হয়েছে। এখন সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় একজন আরেকজনকে দায় দিচ্ছেন।’
এ বিষয়ে আব্দুল মালেকের ছেলে ইফতেখার মালেক বলেন, ‘২০১৭-২০১৯ সালের লেনদেন নিয়ে ২০২৫ সালে অভিযোগ তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত? ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অননুমোদিত লেনদেনের সুযোগই নেই।’
অন্যদিকে ইউসুফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আছে। ব্যাংককের সুখুম্ভিত রেসিডেন্স কন্ডোতে তাঁর নামে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০১৬ সালে সরিষা আমদানির নামে ৪৩টি খালি কনটেইনার আনার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মামলাও হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউসুফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, পরে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।
আর্থিক খাতের প্রভাবশালী এই দুই বন্ধুর মধ্যে ইউসুফ চৌধুরী ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্সের পরিচালক, ঢাকায় রয়েল প্যালেস ও রয়েল টাওয়ার হোটেলের মালিক। আব্দুল মালেক ছিলেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান, জেসকো ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তাঁদের যৌথ উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বোর্ড পেপার মিলস লিমিটেড।
দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের জুবিলী রোডের মান্নান ভবনে ছিল তাঁদের কার্যালয়। পরে অফিস স্থানান্তর হয় একই সড়কের ইপিক ইত্তেহাদ টাওয়ারে।
সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠান—লাকী ট্রেডিং (ইউসুফ চৌধুরী ওরফে দীপু) এবং বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের (মোহাম্মদ আব্দুল মালেক) দরজায় তালা ঝুলছে।
একই ভবনের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে দুজন পাশাপাশি বসতেন। শেষ দিকে দীপু একাই অফিসে আসতেন, মালেকের চেয়ারটা খালি থাকত। এখন দুজনের একজনকেও দেখা যায় না।
ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দুই প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ঋণ শোধ না করায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা ও চেক প্রত্যাখ্যান মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, দুই কর্ণধারই বহু বছর বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। প্রভাবের কারণে এত দিন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংক দুটি।

একসময় চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্য আমদানি ব্যবসার পরিচিত জুটি ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী ওরফে দীপু এবং মোহাম্মদ আব্দুল মালেক। শৈশবের বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে পাঁচ দশক ধরে তাঁরা পাশাপাশি বসে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। একই অফিস, একই চেম্বার এমনকি একই দেয়ালঘেরা জমিতে পাশাপাশি বাড়িও গড়েছিলেন। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি সবকিছু ভাগাভাগি করতেন। কিন্তু শেষ বয়সে সেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরেছে। যৌথ ব্যবসা বন্ধ, অফিস বন্ধ আর এখন একে অপরের নামও মুখে নেন না।
ব্যবসায় সফলতা অর্জনের পর দুজনই চট্টগ্রামের ব্যাংক ও ইনস্যুরেন্স খাতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। একাধিক বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন তাঁরা। কিন্তু এখন তাঁদের নাম ঋণখেলাপির তালিকায়।
দুই বন্ধুর প্রতিষ্ঠান লাকী ট্রেডিং ও বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কাছে দুই ব্যাংকের মোট পাওনা প্রায় ৩২৫ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার হিসাব অনুযায়ী, লাকী ট্রেডিংয়ের কাছে পাওনা ৯৮ কোটি ৬০ লাখ এবং বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কাছে ৭৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার তথ্যমতে, লাকী ট্রেডিং থেকে ব্যাংকের পাওনা ৯৪ কোটি ৩০ লাখ এবং বেঙ্গল ট্রেডিং থেকে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীপু-মালেক জুটির পতনের মূল কারণ আস্থার সংকট ও আর্থিক অসংগতি। দীর্ঘদিন নিজেদের হাতে ব্যবসা পরিচালনার পর দায়িত্ব দিয়েছেন কর্মকর্তাদের হাতে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার সময় অনিয়ম ও অননুমোদিত লেনদেনের অভিযোগ ওঠে, যা পারস্পরিক সন্দেহের জন্ম দেয়।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগও উঠেছে। ইউসুফ চৌধুরী সম্প্রতি দুদকে অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে লাকী ট্রেডিংয়ের হিসাব থেকে বেঙ্গল ট্রেডিংয়ে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অননুমোদিতভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের কর্ণধার আব্দুল মালেক, তাঁর ছেলে ইফতেখার মালেক, বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের একজন কর্মকর্তা এবং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক বোরহান উদ্দিন চৌধুরীকে।
বোরহান উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘সব লেনদেনই উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মতিতে হয়েছে। এখন সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় একজন আরেকজনকে দায় দিচ্ছেন।’
এ বিষয়ে আব্দুল মালেকের ছেলে ইফতেখার মালেক বলেন, ‘২০১৭-২০১৯ সালের লেনদেন নিয়ে ২০২৫ সালে অভিযোগ তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত? ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অননুমোদিত লেনদেনের সুযোগই নেই।’
অন্যদিকে ইউসুফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও বিদেশে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও আছে। ব্যাংককের সুখুম্ভিত রেসিডেন্স কন্ডোতে তাঁর নামে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। ২০১৬ সালে সরিষা আমদানির নামে ৪৩টি খালি কনটেইনার আনার মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচারের মামলাও হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউসুফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, পরে বার্তা পাঠালেও সাড়া দেননি।
আর্থিক খাতের প্রভাবশালী এই দুই বন্ধুর মধ্যে ইউসুফ চৌধুরী ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্সের পরিচালক, ঢাকায় রয়েল প্যালেস ও রয়েল টাওয়ার হোটেলের মালিক। আব্দুল মালেক ছিলেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান, জেসকো ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান ও একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তাঁদের যৌথ উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম বোর্ড পেপার মিলস লিমিটেড।
দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের জুবিলী রোডের মান্নান ভবনে ছিল তাঁদের কার্যালয়। পরে অফিস স্থানান্তর হয় একই সড়কের ইপিক ইত্তেহাদ টাওয়ারে।
সম্প্রতি সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুটি প্রতিষ্ঠান—লাকী ট্রেডিং (ইউসুফ চৌধুরী ওরফে দীপু) এবং বেঙ্গল ট্রেডিংয়ের (মোহাম্মদ আব্দুল মালেক) দরজায় তালা ঝুলছে।
একই ভবনের এক ব্যবসায়ী জানান, আগে দুজন পাশাপাশি বসতেন। শেষ দিকে দীপু একাই অফিসে আসতেন, মালেকের চেয়ারটা খালি থাকত। এখন দুজনের একজনকেও দেখা যায় না।
ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যাংকের ঋণ পরিশোধও বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দুই প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন ঋণ শোধ না করায় তাদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা ও চেক প্রত্যাখ্যান মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, দুই কর্ণধারই বহু বছর বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন। প্রভাবের কারণে এত দিন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংক দুটি।

সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসন। এই আসনে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাইকালে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। আর প্রার্থীরা প্রবাসী স্ত্রী, ভাই, বোন ও ছেলের টাকায় নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন বলে
২ ঘণ্টা আগে
সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন এবং বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন দুটিতে মোট বৈধ প্রার্থী ১৮ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোনো প্রার্থীরই বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকা নেই।
২ ঘণ্টা আগে
পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি তিনি আজকের পত্রিকার পাবনা প্রতিনিধি শাহীন রহমানের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
২ ঘণ্টা আগে
দেশে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাস নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও এলপি গ্যাস আমদানিকারকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ সংকটই এই অবস্থার কারণ।
৩ ঘণ্টা আগে