Ajker Patrika

বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: চমেকে আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: চমেকে আরও ২ শ্রমিকের মৃত্যু
নূর নবী হৃদয়, উজ্জ্বল দাশ। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আরও দুই শ্রমিক মারা গেছেন। গতকাল রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বোয়ালখালী উপজেলার নূর নবী হৃদয় (২৫) ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উজ্জ্বল দাশ (৫৩) মারা যান। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়াল।

চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, বিকেল ৩টায় উজ্জ্বল দাশকে এবং রাত সাড়ে ১০টায় নূর নবী হৃদয়কে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত নূর নবী হৃদয় বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর গ্রামের উত্তর সাতঘড়িয়া পাড়ার নূর ছফার ছেলে।

নূর নবীর খালা নারগিস আকতার বলেন, ঘটনার দিন হৃদয় ফ্যাক্টরিতে কন্ট্রাকটারের অধীনে কাজ করতে গিয়েছিলেন। দুই বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর এক বছর ২ মাস বয়সী একটি ছেলে আছে।

নারগিস আকতারের ভাষ্য, আইসিইউতে নেওয়ার সময় হৃদয় তাঁর বাবা ও বোনদের বলেছিলেন, ‘চোখের অংশ পুড়ে গেছে, আমি চোখে দেখছি না। আমাকে আওয়াল আখেরে মাফ করে দিবেন।’ তিনি আরও বলেন, হৃদয় তার ছেলেটাকে দেখার আকুতিও জানিয়েছিলেন।

অপর নিহত উজ্জ্বল দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের শান্তিরহাট মধুরাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পোমরায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে একসঙ্গে জীবন্ত কবর দেওয়া ১৪ শহীদের অন্যতম শহীদ বিরাজ দাশের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে কয়েক দিন আগে একজন ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় কাজে যোগ দেন উজ্জ্বল দাশ।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, কনফিডেন্স কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা আপাতত কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কনফিডেন্স লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে ১১ জন দগ্ধ হন। ওই দিন রাতেই বোয়ালখালীর দিদারুল আলম ও পটিয়ার নুরুল আলম মারা যান। সর্বশেষ দুই শ্রমিকের মৃত্যুর পর এ ঘটনায় মোট চার শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত