Ajker Patrika

চমেক এলাকার অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চমেক এলাকার অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে চালক-মালিকদের সঙ্গে এনসিপি নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও তদন্তের পর এই মামলা করে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ। থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফ উদ্দিন সরদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩৮৪, ৪২০ ও ৫০৬ ধারার পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৪০/৯২(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে চমেক হাসপাতালকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা, চালকদের হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ উঠে আসে।

এই অবস্থায় ৮ জুন অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনারকে (এডিসি) সরেজমিন তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বেআইনি বাধা দেওয়ার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় এতে।

আদালতের নির্দেশনার পর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোহেল পারভেজ বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করেন। তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর মামলা করার জন্য পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত মামলাটি করা হয়।

থানায় করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৭ জুন বিকেলে চমেক হাসপাতালের পূর্ব গেট এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলায় চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আশিকুর রহমান আশিক, যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ চৌধুরী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন মারুফসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।

এজাহারে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি ও কিছু চালক দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। বাইরের বৈধ অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন প্রবেশে বাধা দেওয়া, চালকদের হুমকি দেওয়া এবং ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসে নীল বাতি ও সাইরেন লাগিয়ে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলায় দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের একজন মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, তাঁর বাবার মরদেহ চমেক হাসপাতাল থেকে ফটিকছড়িতে নিতে গিয়ে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য করা হয়। অপর ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান জীবন অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাঁকে নির্ধারিত সিন্ডিকেটের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত