চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতাল

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) মো. নাজিম উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে পুলিশ সদস্যদের ছুটি এবং মেডিকেল সনদ ইস্যু করেন তিনি। এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে একাধিকবার মিশনে যাওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
হাসপাতালে কর্মরত বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত নাজিম। আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনটিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন। এ কারণে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত সেপ্টেম্বরে পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ডিঅ্যান্ডপিএস-১) বেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়ার পর সিএমপি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত উপকমিশনার (এমটি) মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এটা পুরোপুরি বিভাগীয় তদন্ত; বাইরের কেউ জানার বিষয় নয়।’
হাসপাতালের পরিচালনায় রয়েছে সিএমপি সদর দপ্তর। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিএমপির উপকমিশনার) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘তদন্ত শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটি পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে পুলিশ সদর দপ্তরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে একসময় কর্মরত পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পাঠানো অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন করে এই তদন্ত শুরু হয় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
তদন্ত ও বদলির ইতিহাস
২০২২ সালে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ছুটির অনুমতি এবং ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তখন হাসপাতালের আটজন চিকিৎসক লিখিত অভিযোগে জানান, নাজিম হাসপাতাল এড়িয়ে ভুল নির্দেশনা দিতেন এবং ছুটি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতেন। ওই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্তে উঠে আসে, তিনি সাধারণ পুলিশ সদস্যদের বিশ্রাম, ছুটি ও মেডিকেল সনদ দিতে অর্থ নিতেন; বেসরকারি ল্যাব থেকে কমিশন গ্রহণ করতেন; সরকারি রোগী প্রাইভেট হাসপাতালে পাঠাতেন; এমনকি তাঁর পছন্দমতো না হলে ছুটির কাগজে স্বাক্ষরে গড়িমসি করতেন। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৬ নভেম্বর তাঁর প্রেষণ বাতিল করে তাঁকে মূল কর্মস্থল রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি হাসপাতালে ফেরত পাঠানো হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার বদলের পর তিনি আবারও চট্টগ্রামের বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করেন।
যৌন নির্যাতনসহ আরও অভিযোগ
২০১৭ সালে চট্টগ্রামের মিড পয়েন্ট হাসপাতালে কর্মরত এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নাজিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ওই নারী চিকিৎসকের ভাইকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছিল। চাপের মুখে পড়ে তিনি মামলা তুলে নেন। আজকের পত্রিকাকে ওই নারী চিকিৎসক বলেন, ‘আমি ওনার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। ঘটনাটি তখনই মিটমাট হয়ে গেছে। তিনি আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর মামলা তুলে নিই।’
এ ছাড়া জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত অবস্থায় একাধিক নারী পুলিশ সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাজিম ২০২২ ও ২০২৩ সালে হজ চিকিৎসক দলের সদস্য হন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি কখনোই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনো নাই। এগুলো সব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। হাসপাতালের কোনো একটি পক্ষ আমাকে হয়রানি করতে এসব করছে।’ নারী চিকিৎসকের ঘটনায় তিনি বলেন, ‘সেটা সামান্য ভুল-বোঝাবুঝি ছিল। পরে সমাধান হয়ে গেছে।’

নরসিংদীর রায়পুরায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রকৌশলীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
১৫ মিনিট আগে
খুলনা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির (২২) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির সামনে অ্যাড. আইয়ুব আলীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাব্বির টুটপাড়া মুজাহিদ সড়কের বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।
২০ মিনিট আগে
সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে উপজেলা কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিতর্কের মধ্যে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন চন্দ্র দে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।
৩১ মিনিট আগে
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে এসেছিলেন এই চৌক্কার খালে। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সবাইকে একত্র করে নিজে কোদাল হাতে খাল খনন শুরু করেন। মাটি কেটেছেন। তাঁর তখন চিন্তা-ধারণার মধ্যে ছিল যে—এই খাল যখন খনন হবে, খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে।
৪৩ মিনিট আগে