Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ‘ভাসমান গুদাম’ ঠেকাতে যৌথ অভিযান, আটক ২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ‘ভাসমান গুদাম’ ঠেকাতে যৌথ অভিযান, আটক ২৮
বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজে যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে আজ বুধবার যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ২৮ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২৪ জনকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো অসাধু ব্যক্তি বা চক্র যেন পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে রেখে বাজারে পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। সন্দেহজনক বা অনিয়মপূর্ণ কার্যক্রম শনাক্ত হলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পণ্য পরিবহন ও খালাসে অযথা বিলম্ব, পণ্য আটকে রাখা বা কোনো ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে চালকদের প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্দেশনা অনুসরণের জন্য অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজে লোড করা পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে খালাস ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বন্দর সচিব জানান, যৌথ অভিযানে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় ট্রলারে তল্লাশি ও যাচাই করা হয়। এ সময় মূল নেভিগেশন চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে ২৮ জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নেভিগেশন চ্যানেলে অবৈধ জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং তাদের সচেতন করা হয়েছে। নেভিগেশনাল সেফটি বজায় রাখা এবং মূল নেভিগেশনাল চ্যানেল ও শিপিং চ্যানেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১টি জাহাজ ও ২টি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ১টি জাহাজ ও ২টি বোট অংশ নেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত