
বারবার গর্ভপাতের ক্ষেত্রে এখন পুরুষের শুক্রাণুর স্বাস্থ্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন চিকিৎসকেরা। নতুন গবেষণায় শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতি, আইভিএফের সাফল্য এবং ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশের মধ্যে সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে লাস ভেগাসের ফার্টিলিটি সেন্টারের প্রজনন চিকিৎসক ক্যারি বেডিয়েন্ট ৩২ বছর বয়সী এক দম্পতির সঙ্গে বসেছিলেন। পাঁচ বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। কিন্তু একের পর এক আইভিএফ চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে। হয়েছে একাধিক গর্ভপাত, ব্যর্থ ভ্রূণ স্থানান্তর এবং ‘কেমিক্যাল প্রেগন্যান্সি’ নামে পরিচিত এক ধরনের অতি-প্রাথমিক গর্ভধারণের ক্ষতিও।
দম্পতির চিকিৎসায় প্রচলিত প্রায় সব পরীক্ষাই করা হয়েছিল। রক্ত পরীক্ষা, পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা পরীক্ষা এবং নারীর জরায়ুর গঠন পরীক্ষা, সবই হয়েছিল। এরপর বেডিয়েন্ট এমন একটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, যা তখনও অনেক চিকিৎসকের কাছে বিতর্কিত ছিল। পুরুষের শুক্রাণুর ডিএনএতে ক্ষতি বা ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশন আছে কি না, তা পরীক্ষা করা।
তিনি রাজি হন। পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর শুক্রাণুর ডিএনএতে মাঝারি মাত্রার ক্ষতি রয়েছে। বেডিয়েন্ট তাঁকে জীবনযাপনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন। বেডিয়েন্ট তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি চাই, আপনি যতটা সম্ভব সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলুন।’
পরে ওই দম্পতির পুরুষ মদ্যপান ও ধূমপান বন্ধ করেন, ব্যায়াম শুরু করেন এবং ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নিতে থাকেন। ছয় মাস পর দম্পতি আবার ভ্রূণ তৈরি করেন। এবার ফল আসে। তাঁদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। বেডিয়েন্ট বলেন, ‘সে পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলেছিল, আর এখন তাদের একটি সুন্দর ছেলে সন্তান হয়েছে।’
পুরুষের বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা বলতে এত দিন মূলত বীর্যের পরিমাণ ও ঘনত্ব, শুক্রাণুর আকৃতি এবং সেগুলোর চলাচলের ক্ষমতা দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, শুক্রাণুর ভেতরের ডিএনএ কতটা অক্ষত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বহু গবেষণায় শুক্রাণুর ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশনের সঙ্গে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নতুন গবেষণাগুলো আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতি আইভিএফের মাধ্যমে জীবিত সন্তান জন্মের হার কমাতে এবং ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশে সমস্যা তৈরি করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
শুক্রাণুর ডিএনএ পরীক্ষা অবশ্য নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ধরনের পরীক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু তা সাধারণ চিকিৎসার অংশ হয়ে ওঠেনি। কারণটাও সহজ—পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়লেও চিকিৎসকেরা সব সময় জানতেন না, এরপর কী করা উচিত। শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতির কারণও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ, বেশি বয়সে বাবা হওয়া এবং মাদক গ্রহণ বা ধূমপানের মতো জীবনযাপনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরীক্ষার খরচও ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে এবং সব স্বাস্থ্যবিমা এর খরচ বহন করে না।
এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো চিকিৎসা নির্দেশিকা হালনাগাদ করেছে আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন (এএসআরএম)। বারবার গর্ভপাতের চিকিৎসা নিয়ে প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, একাধিকবার গর্ভধারণ নষ্ট হলে শুক্রাণুর ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশন পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে এএসআরএম এখনো পরীক্ষাটিকে সরাসরি সুপারিশ করছে না। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতি কমানোর চিকিৎসা শেষ পর্যন্ত গর্ভধারণের ফলাফল উন্নত করে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবু এএসআরএমের এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন ও হরমোন বিশেষজ্ঞ এবং সংগঠনটির ক্লিনিক্যাল নির্দেশিকা তৈরির প্র্যাকটিস কমিটির চেয়ার ক্লারিসা গ্রাসিয়া।
গ্রাসিয়া বলেন, ‘আমাদের সারসংক্ষেপ বিবৃতিটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু অন্তত এটি স্বীকার করেছে যে পুরুষের মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দম্পতি যখন সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন, তখন আমার মনে হয় পুরুষকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। কারণ আমরা ক্রমেই জানতে পারছি, পুরুষের স্বাস্থ্যও প্রজনন-সংক্রান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলে।’
আমেরিকান ইউরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, বন্ধ্যাত্বের ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণ এককভাবে দায়ী। আরও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়ের কারণ একসঙ্গে কাজ করে।
গর্ভপাতের সঙ্গে পুরুষের শুক্রাণুর সম্পর্ক নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা অবশ্য খুব পুরোনো নয়। মাত্র কয়েক দশক আগেও চিকিৎসকেরা সন্দেহই করতেন না যে গর্ভপাতের ক্ষেত্রে শুক্রাণু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফার্টিলিটি ক্লিনিকগুলোতে অবশ্য কিছু ঘটনা নিয়ে আলোচনা হতো। এমন নারী রোগীর গল্প শোনা যেত, যাঁরা আগে সন্তান ধারণ করতে পারেননি, পরে বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন সঙ্গীর সঙ্গে গর্ভধারণ করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
বস্টন আইভিএফ ও আইভিআই আরএমএ নর্থ আমেরিকার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডেনি সাক্কাস বলেন, এসব ঘটনা থেকেই চিকিৎসকদের মধ্যে পুরুষের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা তৈরি হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে সাক্কাস বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত পুরুষদের শুক্রাণুর ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি ডিএনএর অণুগঠনে ছোট ছোট ভাঙন দেখতে পান।
তিনি বিষয়টি বোঝাতে ডিএনএকে একটি নির্দেশিকা বই বা অপারেটিং ম্যানুয়ালের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘ডিএনএ হলো একটি নির্দেশিকা বই। সেই নির্দেশনায় যদি অনেক বানান ভুল থাকে, তাহলে হয়তো গর্ভধারণ ঘটতে পারে। কিন্তু গর্ভধারণ যখন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বানান ভুল, ধরুন হৃদ্যন্ত্রের টিস্যুর বিকাশে প্রভাব ফেলবে, তখন গর্ভধারণ আর এগোয় না।’
তাঁর ধারণা, বারবার গর্ভপাতের ক্ষেত্রে শুক্রাণু আরও সক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করার দিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঐকমত্য এগোবে। বিশেষ করে এখন যখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরও উন্নত এবং তুলনামূলক কম খরচের ডিএনএ পরীক্ষা তৈরি করছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কিছু শুক্রাণু বাছাইয়ের যন্ত্র সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর শুক্রাণু শনাক্ত করতে পারে। এরপর সেই শুক্রাণুকে সরাসরি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করানো হয়।
পুরুষের ভূমিকা স্বীকার করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গর্ভপাত ও বন্ধ্যাত্বকে ঘিরে থাকা সামাজিক লজ্জা কমানো। চ্যাপম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবাহ ও পারিবারিক থেরাপির অধ্যাপক ব্রেনান পিটারসন বলেন, পুরুষত্বকে প্রায়ই প্রজননক্ষমতার সঙ্গে এক করে দেখা হয়। ফলে সন্তান জন্ম দিতে না পারলে অনেক পুরুষ নিজেদের পুরুষত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই আমার রোগীদের কাছ থেকে শুনি, ‘আমি যদি সন্তান নিতে না পারি, তাহলে তার মানে আমি একজন পুরুষ হিসেবে কম গুরুত্বপূর্ণ।’
এর সঙ্গে যুক্ত হয় লজ্জা, বিষণ্নতা এবং বিষয়টি গোপন রাখার প্রবণতা। পিটারসনের মতে, এএসআরএমের নতুন নির্দেশিকায় পুরুষের ভূমিকার কথা উঠে আসা তাই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আশা করা যায়, এটি সাধারণ মানুষকে বুঝতে সাহায্য করবে যে বন্ধ্যাত্ব ও গর্ভপাতের যন্ত্রণা শুধু নারীদের বিষয় নয়।’
গর্ভপাত নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরোনো ধারণায় এত দিন যেন সমস্যাটির অর্ধেকই দেখা হতো। এখন গবেষণা বলছে, সন্তান ধারণের গল্পে পুরুষের শরীরও নীরব দর্শক নয়। শুক্রাণুর ডিএনএ, পুরুষের স্বাস্থ্য এবং জীবনযাপনের প্রভাব নিয়ে গবেষণা যত এগোবে, চিকিৎসার সেই অসম্পূর্ণ ছবিটিও হয়তো ধীরে ধীরে পূর্ণ হবে।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্তে একজন ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
১ ঘণ্টা আগে
২০২২ সালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) আট সদস্য দেশে নথিভুক্ত আনুমানিক শৈশবকালীন ক্যানসারের ঘটনার প্রায় ১০ টির মধ্যে সাতটিই ভারতে। অর্থাৎ, প্রায় ৬৯ শতাংশ ক্যানসার আক্রান্ত শিশুই ভারতের। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে দ্যা ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ-সাউথইস্ট এশিয়া জার্নালে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম
৭ ঘণ্টা আগে
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ওষুধ বা সিরিঞ্জ দিয়ে
১ দিন আগে
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১২৫ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।
১ দিন আগে