Ajker Patrika

মাদ্রাসায় মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, পলাতক ২ শিক্ষক

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি 
মাদ্রাসায় মোবাইল হারানোকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, পলাতক ২ শিক্ষক

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার একটি হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই শিশু ছাত্রকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘড়িয়া হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্র হলো নন্দীগ্রাম উপজেলার শ্রীঘণ্টা গ্রামের মো. সিফাত (১০) এবং শেরপুর উপজেলার জামুর উত্তরপাড়া গ্রামের নাঈম হোসেন (১১)। তারা মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন আতিকুল হাসান ও ইসমাইল হোসেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার শিক্ষক আতিকুল হাসানের একটি মুঠোফোন হারিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে দুই শিশুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ফোন চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাদের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে দুই শিশুর কোমর ও শরীরের নিচের অংশে গুরুতর জখম হয়।

সিফাতের বড় চাচা আহমেদ আলী বলেন, সোমবার দুপুরে তিনি নির্যাতনের খবর পেয়ে মাদ্রাসায় যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, দুই শিশু যন্ত্রণায় বিছানায় পড়ে আছে। পরে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।

আহমেদ আলী আরও বলেন, মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, মুঠোফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই শিশুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সোমবার বিকেলে এলাকাবাসী মাদ্রাসার সামনে বিক্ষোভ করেন। তবে এর আগেই অভিযুক্ত দুই শিক্ষক এলাকা ছেড়ে চলে যান।

কুসুম্বী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, ‘মাদ্রাসার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’

শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে গতকাল সন্ধ্যায় তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত