Ajker Patrika

স্ত্রীকে ‘তুলে আনতে’ গিয়ে জনরোষে ছাত্রদল নেতা, ফেলে গেলেন দুই মোটরসাইকেল

বগুড়া প্রতিনিধি
আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ২২: ৩৫
স্ত্রীকে ‘তুলে আনতে’ গিয়ে জনরোষে ছাত্রদল নেতা, ফেলে গেলেন দুই মোটরসাইকেল
শাকিল ও তাঁর সহযোগীদের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেল। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্ত্রী তালাকনামা পাঠানোয় তাঁকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনরোষের মুখে পড়েন ছাত্রদল নেতা ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধাওয়ার মুখে দুটি মোটরসাইকেল ফেলেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার ভাগ শিমলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম সরকারি মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল দুই বছর আগে ভাগ শিমলা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে আরফিন আলমগীর রিভাকে পছন্দ করে বিয়ে করেন। কিন্তু রিভার বাবা-মা এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় মেয়ের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

দুই মাস আগে শাকিল-রিভা দম্পতির ঘরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। গত রোববার (১৪ জুন) রিভার বাবা-মা তাঁদের বিয়ে মেনে নিয়ে শাকিলের বাড়িতে যান এবং মেয়েকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে গতকাল বুধবার বাবার বাড়ি থেকেই রিভা তাঁর স্বামী শাকিলকে তালাকনামা পাঠান।

তালাকের খবর পেয়ে আজ শাকিল তিনটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ শিমলা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান বলে অভিযোগ। এ সময় সঙ্গে থাকা কর্মীরা বাড়ির লোকজনকে মারধর করে রিভাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে শাকিল ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজনকে ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তাঁরা দুটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

শাকিলের স্ত্রী আরফিন আলমগীর রিভা বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাকিল ও তাঁর মা তাঁকে মারধর করতেন। শাকিল তাঁর গয়না নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সন্তান প্রসবের পরও তাঁকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন রিভা।

আরফিন আলমগীর রিভা বলেন, ‘বাবা-মা বিয়ে মেনে না নেওয়ার কারণে আমি বাধ্য হয়ে শাকিলের বাড়িতে ছিলাম। গত ১৪ জুন বাবা-মা আমাকে শাকিলসহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর আমি শাকিলকে তালাক দিই। তালাকের খবর পেয়ে সে কর্মীদের নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল বলেন, ‘আমি প্রেম করে বিয়ে করেছি। স্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎ তালাকের খবর পেয়ে কারণ জানতে শ্বশুরবাড়িতে যাই। এ সময় আমার স্ত্রী ও তার পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে। সঙ্গে থাকা কয়েকজন সাংবাদিককেও মারধর করা হয়। প্রাণভয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।’

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ভাগ শিমলা গ্রামে আলমগীর হোসেনের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে শাকিলসহ অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মোটরসাইকেল নিতে থানায় যোগাযোগ করেনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন শাকিল। ওই সময় পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়ায় এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে তাঁকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েক দিন পর তাঁকে আবারও দলীয় পদে বহাল করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত